ঢাকার ডেমরা থানার পশ্চিম বক্সনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ সময় জুয়েল ওরফে ওস্তাদ ও আরিফ নামে দুই যুবককে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে জুয়েল ভূঞাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, আটক দুজন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সদস্য।
রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পশ্চিম বক্সনগরের নিঝুমবাগ এলাকার গরীবের নেওয়াজ মসজিদ রোড মোড়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট ও অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ)-এর সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান চালান। অভিযানের সময় সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে মো. জুয়েল ভূঞাকে তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে কালো কস্টেপ দিয়ে মোড়ানো আনুমানিক ছয় ইঞ্চি লম্বা দুটি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার জুয়েল ভূঞা নরসিংদীর শিবপুর থানার কাজীরচর গ্রামের আবুল ভূঞার ছেলে। একই অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে আরিফ চৌধুরী (২৪) নামে আরও এক সন্দেহভাজন যুবককে আটক করা হয়। তিনি ডেমরার নিঝুমবাগ এলাকার আব্দুল হাইয়ের ছেলে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, জুয়েল ও আরিফ এর আগে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও কেরানীগঞ্জ এলাকায় বোমা তৈরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া পুলিশের একটি চেকপোস্টে দায়িত্বরত সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের আহত করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
অভিযানের সময় মামুন নামে আরও এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দুটি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের খবর পেয়ে ডেমরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে ফেলে। পরে বোমা ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার করা দুটি বোমাসদৃশ বস্তু নিষ্ক্রিয় করেন।
পরে গ্রেপ্তার জুয়েল ও আটক আরিফকে উদ্ধার করা আলামতসহ ডেমরা থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা জানতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি পলাতক মামুনকে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদের শনাক্ত করতে এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিকে, অভিযানকে কেন্দ্র করে পশ্চিম বক্সনগর ও নিঝুমবাগ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
আরও পড়ুন:








