রবিবার

১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১ ভাদ্র, ১৪৩৩

ওপার থেকে জয় শ্রীরাম এপারে আল্লাহু আকবার

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৩৭

শেয়ার

ওপার থেকে জয় শ্রীরাম এপারে আল্লাহু আকবার
ছবি এআই মাধ্যমে তৈরি

বেনাপোল সীমান্তে ভারতীয়দের জয় শ্রীরাম স্লোগানের পাল্টা জবাবে ধ্বনিত হলো আল্লাহু আকবার। বেনাপোল সীমান্তে পাল্টাপাল্টি স্লোগান। ওপার থেকে ভেসে এলো জয় শ্রীরাম, আর পাল্টা জবাবে এপার থেকে সমস্বরে ধ্বনিত হলো নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার।

সীমান্তের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত। দীর্ঘদিনের এক অমীমাংসিত উত্তেজনা আর আস্থার সংকটের নাম। বছরের পর বছর ধরে নানা ইস্যুতে এই সীমান্ত বরাবরই খবরের শিরোনাম হয়ে এসেছে। কখনো জোরপূর্বক পুশ-ইন বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা, কখনো নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর সীমান্ত হত্যা, আবার কখনো চোরাচালান।

নানা কারণে এই সীমান্ত এলাকার মানুষের মনে কাজ করে এক ধরনের চাপা শঙ্কা ও ক্ষোভ। দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বার্তা থাকলেও, সীমান্তের মাঠ পর্যায়ের বাস্তব চিত্র অনেক সময়ই ভিন্ন। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এসব অমীমাংসিত সীমান্ত ইস্যু দুই দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি করেছে।

স্বাধীনতা দিবসে যৌথ কুচকাওয়াজে ঘটনা

আর এই দীর্ঘদিনের চাপা উত্তেজনারই যেন নতুন এক বহিঃপ্রকাশ ঘটলো সম্প্রতি ভারতের স্বাধীনতা দিবসে। বেনাপোল সীমান্তে চলছিল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি এবং ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বিএসএফ’র মধ্যকার ঐতিহ্যবাহী যৌথ কুচকাওয়াজ বা জয়েন্ট রিট্রিট সিরিমনি। দুই দেশের শত শত দর্শনার্থী এই মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ দেখতে জড়ো হয়েছিলেন।

কুচকাওয়াজের এক পর্যায়ে ভারতীয় অংশের গ্যালারি থেকে হঠাৎ করেই উগ্রবাদী কিছু দর্শক জয় শ্রীরাম স্লোগান দিতে শুরু করে।

মুহূর্তের মধ্যেই তাদের এই স্লোগান সীমান্ত এলাকায় এক অস্বাভাবিক ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। তবে, ভারতীয় দর্শকদের এমন স্লোগানের বিপরীতে নীরব থাকেনি বাংলাদেশ প্রান্তে থাকা জনতা। ওপার থেকে আসা স্লোগানের পাল্টা জবাব হিসেবে এপার থেকেও সমস্বরে ধ্বনিত হতে থাকে নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার।

থমথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

দুই পারের দর্শকদের এই পাল্টাপাল্টি স্লোগানে কিছু সময়ের জন্য সীমান্তে এক থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হলেও, দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তৎপরতায় তা আর বেশিদূর গড়ায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে সাধারণ দর্শকদের এমন আচরণ দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই প্রতিফলন। সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং পুশ-ইনের মতো সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান না হলে, ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আরও বড় কোনো উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা সচেতন মহলের।



banner close
banner close