শনিবার

১৫ আগস্ট, ২০২৬ ৩১ শ্রাবণ, ১৪৩৩

মুজিবের পতনের দিন সারাদেশে আওয়ামীপন্থীদের প্রতিহত

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ২১:১৬

শেয়ার

মুজিবের পতনের দিন সারাদেশে আওয়ামীপন্থীদের প্রতিহত
ছবি সংগৃহীত

তুমুল প্রচার, রাষ্ট্রীয় আয়োজন আর রাজনৈতিক আবেগপ্রবণতার এক দীর্ঘ কালো অধ্যায়ের নাম ছিল শেখ মুজিবুর রহমান। কখনো তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা, কখনো তাঁকে জাতির পিতা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান, আবার কখনো তাঁর জন্মবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে শত কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ, এসব বিষয়কে ঘিরে বছরের পর বছর ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে জন্ম নিয়েছে নানামুখী বিতর্ক।

সমালোচকদের মতে, শেখ মুজিবুর রহমানকে ঘিরে শেখ হাসিনার মাত্রাতিরিক্ত প্রচারণা, তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আবেগের অপব্যবহার এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেই দিবসগুলোকে ঘিরে সীমা অতিক্রমকারী পদক্ষেপ বারবার জনমনে সৃষ্টি করেছে তীব্র ক্ষোভ, বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়ার। তথ্য বলছে, সেই ক্ষোভই যেন নতুন মাত্রা পায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে বিক্ষুব্ধ মানুষের জুতা নিক্ষেপের ঘটনাও লক্ষ করা যায়।

সময়ের স্রোতে দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সেই ক্ষোভের আগুন যেন এখনো দাউ দাউ করে জ্বলছে সাধারণ মানুষের মন-প্রাণে। ২০২৬ সালে এসেও শেখ মুজিবের মৃত্যুদিনকে কেন্দ্র করে ধানমন্ডি ৩২-এর আশপাশে নানা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ধানমন্ডি ৩২-এ ফুল দিতে এসে জুলাই যোদ্ধা ও ছাত্র-জনতার তোপের মুখে পড়েছে। এ সময় নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীদের ছাত্র-জনতা, পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

ধানমন্ডি ৩২-এ ফুল দিতে এসে একজন আটক

এছাড়াও এক যুবক ধানমন্ডি ৩২-এর সামনে সিঙ্গারা বিতরণ করার সময় ছাত্র-জনতা ও জুলাই যোদ্ধাদের হাতে আটক হন। সে সময়, তিনি নিজেকে মুজিবের ভালোবাসায় সিক্ত বলে দাবি করলে, জুলাই যোদ্ধাদের আক্রোশের মুখে পড়েন।

যে ধানমন্ডি ৩২ একসময়, হাসিনার আমলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক আবেগের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হতো, প্রতিটি মুহূর্তে যেখানে থাকত মানুষের আনাগোনা, আয়োজন আর জাঁকজমক, কালের পরিক্রমায় সেই ৩২-ই যেন আজ পরিণত হয়েছে এক নীরব, জনশূন্য এবং অনেকের ভাষায় ভূতুড়ে বাগানবাড়িতে।

ধানমন্ডি ৩২: সময়ের ব্যবধানে ভূতুড়ে বাড়ির উপমা

অপরদিকে, মুজিবের মৃত্যুবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতাকে নেচে-গেয়ে উদযাপন করতেও দেখা যায়। যা বিশ্লেষকদের একটি অংশ, মুজিবের প্রতি ছাত্র-জনতার তীব্র বিদ্রূপ হিসেবে দেখছে।

একইভাবে, কেরাণীগঞ্জ, শেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মুজিববাদীদের প্রতিহতের খবর পাওয়া গেছে এদিন।

বিশ্লেষকদের মতে, শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন একজন স্বৈরাচারী শাসক, যিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর দেশে বাকশাল কায়েমের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর শাসনামলে দুর্নীতি, লুটপাট, চাঁদাবাজি এবং টেন্ডারবাজিসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অপরাধ বিস্তার লাভ করে।

মাহমুদুর রহমান, সম্পাদক, দৈনিক আমার দেশ

এছাড়াও, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এসেছে, শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎখাতের দিনে দেশের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক ছিল। কোথাও বড় ধরনের ভাঙচুর কিংবা সহিংসতার ঘটনা দেখা যায়নি। বরং আনন্দ প্রকাশ করতে অনেক মানুষকে রাস্তায় নেমে আসতেও দেখা গিয়েছিল বলে, বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফ্যাসিবাদী আমলে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে তাঁকে একজন মহানায়ক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, তিনি মহানায়ক নন; বরং খলনায়কই ছিলেন। আর তাঁর এই খলনায়কসুলভ চরিত্রকে আড়াল করার জন্যই দেশজুড়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তাঁকে নিয়ে পরিচালিত হয়েছিল অতিরঞ্জন, আবেগনির্ভর প্রচারণা এবং নানা মাত্রার বাড়াবাড়ি।



banner close
banner close