সৌদি আরবের তৎকালীন বাদশাহ ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজের আমন্ত্রণে ১৯৯০ সালে পবিত্র কাবা শরীফের ভেতরে প্রবেশের বিরল সুযোগ পেয়েছিলেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।
বাদশাহর আমন্ত্রণ ও সম্মেলন
সময়টা ১৯৯০ সাল। কুয়েত ও ইরাকের মধ্যে বেজে উঠেছে যুদ্ধের দামামা। মধ্যপ্রাচ্যের এই চরম সংকট নিরসনে সৌদি আরবের তৎকালীন বাদশাহ ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজ মক্কায় এক আন্তর্জাতিক মীমাংসা বৈঠকের আহ্বান করেন। সারা বিশ্ব থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয় ৪০০ জন বিশিষ্ট মেহমানকে। সেই আমন্ত্রিত অতিথিদের মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় ছিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।
সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে অতিথিদের হোটেলে রাখা হয়। এশার নামাজের পর প্রত্যেক মেহমানের হাতে তুলে দেয়া হয় একটি বিশেষ ব্রিফকেস। যার ভেতরে উপহার হিসেবে ছিল, পবিত্র কাবা শরীফের গিলাফের অংশ, সুগন্ধি আতর, জায়নামাজ এবং তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সূচি। সূচি দেখেই আল্লামা সাঈদীর চোখ আনন্দে অশ্রুসজল হয়ে ওঠে। কারণ, সেখানে লেখা ছিল সম্মেলনের শেষ দিন, অর্থাৎ শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটায় এই বিশেষ মেহমানদের জন্য খুলে দেয়া হবে পবিত্র কাবা শরীফের দরজা।
কাবা শরীফে প্রবেশ
বৃহস্পতিবার সারারাত তাওয়াফ আর ইবাদতের পর আসে, সেই কাঙ্ক্ষিত শুক্রবারের সকাল। ফজরের পর পরই নিরাপত্তার চাদরে কাবা শরীফের চারপাশ ঘিরে ফেলে সেনাবাহিনী। সাধারণ মুসল্লিদের তাওয়াফ সাময়িকভাবে নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আটকে কাবার দরজায় লাগানো হয় বিশাল এক সিঁড়ি। প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রথম সারিতে ছিলেন তৎকালীন আজাদ কাশ্মীরের প্রেসিডেন্ট সরদার আব্দুল কাইয়ুম এবং আফগান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক আব্দুর রব আস-সাইয়াফ। ঠিক তিন নম্বরেই পবিত্র কাবা ঘরের ভেতরে প্রবেশের সেই বিরল সৌভাগ্য অর্জন করেন আল্লামা সাঈদী।
কাবার ভেতরের অনুভূতি
কাবার ভেতরে প্রবেশের অনুভূতি ছিল অবর্ণনীয়। চারদিকে কাবার দেয়াল, মাঝখানে সিজদায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। দীর্ঘ আধা ঘণ্টা ধরে চলে তাঁর কান্না আর মোনাজাত। কাবার ভেতরে তাঁর পাশেই ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভাইস-চ্যান্সেলর মরহুম ডক্টর এম এ বারী। অশ্রুসিক্ত নয়নে তিনি কাবার দরজার দিকে ইশারা করেন। সেখানে স্বর্ণাক্ষরে লেখা ছিলো কোরআনের আয়াত “তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।” এর নিচেই লেখা ছিল সূরা কুরাইশের আয়াত। এই দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেই স্মৃতি তিনি পরবর্তীতে তাঁর বহু মাহফিলে অত্যন্ত আবেগের সাথে স্মরণ করেছেন আল্লামা সাঈদী।
আজ তিনি বেঁচে নেই। তবে, তাঁর সেই স্মৃতিময় বর্ণনা আজও বহু মানুষের হৃদয়ে দাগ কাটে। মহান আল্লাহ যেন তাঁর এই প্রিয় বান্দার কবরকে জান্নাতের টুকরোয় পরিণত করেন এবং তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন, এমনটাই প্রার্থনা তাঁর অগণিত অনুসারীদের।
আরও পড়ুন:



.jpg)




