শনিবার

১৫ আগস্ট, ২০২৬ ৩১ শ্রাবণ, ১৪৩৩

অটো রিকশায় সরকারের দৃষ্টি পড়লে কী করবেন অর্ধলক্ষ চালক?

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:৪৭

শেয়ার

অটো রিকশায় সরকারের দৃষ্টি পড়লে কী করবেন অর্ধলক্ষ চালক?
ছবি সংগৃহীত

গরমের মধ্যে, দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। গ্রাম থেকে শহর, বাড়ছে লোডশেডিং। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলছে সরকার। এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চার্জিংয়ে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ।

মন্ত্রীর বক্তব্য

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার এবং টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ব্যাটারিচালিত অবৈধ অটোরিকশার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে।

মন্ত্রী জানান, দেশে বিপুল সংখ্যক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে এবং এর বড় একটি অংশ রাতে চার্জ দেয়া হয়। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান চলছে। তবে, অভিযান পরিচালনার সময় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সড়কে শৃঙ্খলা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতেও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তবে, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কমপক্ষে অর্ধ লাখ শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা। চালকদের দাবি, হঠাৎ করে এসব যান বন্ধ করে দেয়া হলে, তাদের পরিবারগুলোও পড়বে বড় সংকটে। এছাড়া, বিদ্যুৎ খরচের দায়ও তারা দিচ্ছে ভিন্নদিকে।

চালকদের দাবি

চালকরা আরো বলছে, বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার যে উদ্যোগ নিচ্ছে, সেটি তারা বুঝতে পারে। তবে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হলে তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করতে হবে।

চালকদের অনেকেরই একমাত্র আয়ের উৎস এই রিকশা। তাদের দাবি, এসব যান নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধ করার আগে পর্যায়ক্রমে, বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। কারণ, জানা যায় সারাদেশে প্রায় অর্ধ লাখ শ্রমিক সরাসরি এই খাতের সঙ্গে যুক্ত। পরিবারের সদস্যদের হিসাব করলে এই আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। এই অবস্থায়, নানা অসঙ্গতির কথা বলছে তারা।

তবে, চালকদের আরেকটি অভিযোগ, মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিয়ে নিয়ম-কানুন আরও স্পষ্ট করা দরকার। কোথায় চলবে, কোথায় চলবে না, এ বিষয়ে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত নীতিমালা চায় তারা।

সড়কে নিয়ন্ত্রণে সমর্থন

অবশ্য, সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল বন্ধের উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছে অনেকে। তাদের মতে, মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এসব যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হলে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমতে পারে। তবে, এর পাশাপাশি চালকদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া জরুরি।

বিদ্যুৎ সংকটের সময়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চার্জিং নিয়ে সরকারের উদ্যোগে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। একদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে এই খাতের সঙ্গে যুক্ত লাখো শ্রমিকের জীবিকা, দুই বিষয়ই এখন সামনে। শ্রমিকদের দাবি, রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্ত হলে আগে নিশ্চিত করতে হবে বিকল্প কর্মসংস্থান ও আয়-রোজগারের সুযোগ।



banner close
banner close