প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সারা দেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।
গতকাল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সারা দেশে দলীয় কার্যালয় ও মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় সকাল ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে গতকাল বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার থেকে খালেদা জিয়া কখনো বিচ্যুত হননি। এ কারণে রাজনৈতিক জীবনে তাকে দুঃখ, বেদনা, নিপীড়ন ও নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে।
এরশাদবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, ছাত্র-জনতার সেই আন্দোলনের মূর্ত প্রতীক ও মূল প্রেরণা ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।
জন্মদিন উপলক্ষে শনিবার ঢাকাসহ সারা দেশে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীর গুলশান কার্যালয়ে বাদ আসর দোয়া অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান রিজভী।
এ ছাড়া খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর মহাখালী কড়াইল এলাকার টিঅ্যান্ডটি মাঠে বিকেল ৩টায় দোয়া, মোনাজাত ও দরিদ্র-অসহায়দের মধ্যে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে খালেদা জিয়া ছিলেন চতুর্থ। তার বাবা এস্কান্দর মজুমদার এবং মা বেগম তৈয়বা মজুমদার। পৈতৃক নিবাস ফেনীর ফুলগাজী হলেও বাবার কর্মস্থলের কারণে তার শৈশব ও কৈশোর কাটে দিনাজপুরে।
১৯৬০ সালের আগস্টে তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন খালেদা জিয়া। এ দম্পতির দুই সন্তান। তারেক রহমানের জন্ম ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর এবং আরাফাত রহমান কোকোর জন্ম ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর রাজনীতিতে পা রাখেন গৃহবধূ খালেদা জিয়া। প্রথমে দলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন তিনি।
১৯৯১ থেকে ১৯৯৬, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে তিন দফায় বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন খালেদা জিয়া। নব্বইয়ের দশকে সরকারবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনের পর ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
ওয়ান-ইলেভেনের পর মঈন-ফখরুদ্দীন সরকারের আমলে তিনি কারাবন্দি হন। এরপর ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির অভিযোগে কারাদণ্ড হলে আবারও তাকে বন্দি করা হয়।
করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে তাকে মুক্তি দেয় সরকার। এরপর থেকে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নেন তিনি।
৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরদিন ৬ আগস্ট খালেদা জিয়ার সাজা বাতিল করে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান বিএনপি চেয়ারপারসন। টানা চার মাস চিকিৎসা শেষে ঢাকায় ফেরেন তিনি।
নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া মারা যান। পরদিন সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার স্মরণকালের বৃহত্তম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে শেরেবাংলানগরে স্বামী জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনবারের এই প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন ছিলেন। বর্তমানে দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন তার জ্যেষ্ঠ ছেলে তারেক রহমান, যিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন।
আরও পড়ুন:








