সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, ভেসে বেড়াচ্ছে একটি অন্তরঙ্গ ছবি। নেটিজেনদের দাবি, ওই ছবিতে খল অভিনেতা আশরাফুল হক ডালিমের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে ক্ষণজন্মা নায়ক সালমান শাহ’র স্ত্রী সামিরা হককে।
সালমান শাহ হত্যা মামলার প্রেক্ষাপট
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে মৃত্যু হয় বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক সালমান শাহ’র। তার মৃত্যুর পর দাবি করা হয়, সেটি ছিলো আত্মহত্যা। তবে, পরবর্তীতে সালমানের পরিবার ১১ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা করে রাজধানীর রমনা থানায়। আর এই মামলার প্রধান আসামী করা হয় সালমানের স্ত্রী সামিরা হককে।
সালমানের পরিবারের সদস্যরা সালমানের মৃত্যুর কারণে, সামিরাকে দোষারোপ করেছে বিভিন্ন সময়ে। তবে, মামলার অগ্রগতি না হওয়ায় স্পষ্ট তথ্য সামনে আসেনি প্রায় তিন দশক। দীর্ঘদিন পর, সালমান শাহ হত্যা মামলার অগ্রগতিতে, চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্যই সামনে আসছে। এই মামলায়, সম্প্রতি গ্রেপ্তার করা হয়েছে খল অভিনেতা ডনকে।
ভাইরাল ছবি ও সম্পর্কের দাবি
এরপরই ছড়িয়ে পড়া ওই ছবি নিয়ে দাবি করা হচ্ছে, ডনের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক ছিলো সামিরার। তবে, ভিন্ন দাবিও রয়েছে। ভাইরাল ছবিটি নিয়ে কেউ কেউ দাবি করেছে, ডনের পাশে থাকা নারী সামিরা নন, তিনি অভিনেত্রী সাবরিনা। আর, ‘আশা ভালোবাসা’ নামের একটি সিনেমার শুটিংয়ের সময় ছবিটি তোলা হয়েছিল।
অন্যদিকে, সামিরার অবৈধ সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়িয়েছে নানা সময়েই। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া, সালমানের একটি অডিও রেকর্ড থেকে ধারণা করা হচ্ছে, সালমানের বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী আব্দুল খালেকের সঙ্গেও অবৈধ সম্পর্ক ছিলো সামিরার।
ওই রেকর্ডে বেরিয়ে এসেছে খালেকের সঙ্গে, সালমানের স্ত্রী সামিরা হকের গোপন সম্পর্কের লোমহর্ষক তথ্য।
রেকর্ডে যে নারী কণ্ঠকে অডিওতে শোনা যাচ্ছে, তিনি ওই বাসার তৎকালীন গৃহকর্মী। শুটিংয়ের ব্যস্ততায় নায়ক বাইরে থাকার সুযোগে নিরাপত্তারক্ষী খালেক কীভাবে এবং কেন ওপরে ফ্ল্যাটে আসতেন, তা নিয়েই গৃহকর্মীকে কঠিন জেরা করতে শোনা যায় সালমান শাহকে।
একইভাবে, সালমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামী ও প্রযোজক আজিজ মোহাম্মাদ ভাইয়ের সঙ্গেও অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন সামিরা, বিভিন্ন সময়ে এমন অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব অভিযোগ তুলে, সামিরাই সালমানকে হত্যা করিয়েছেন, এমন দাবি অনেক আগে থেকেই করে আসছেন সালমানের মা নীলা চৌধুরী।
ভক্তদের দাবি
ভক্ত ও পরিবারের দীর্ঘদিনের সন্দেহ খালেকসহ বহিরাগতদের সঙ্গে সামিরার অনৈতিক সম্পর্ক এবং পারিবারিক কলহের বিষয়টি জেনে গিয়েছিলেন সালমান। এমনকি মৃত্যুর কিছুদিন আগে সামিরাকে ডিভোর্স দেয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন তিনি; যা এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি, খলনায়ক ডন আইনের আওতায় আসার পর, সামিরা হকসহ সালমান হত্যার সব আসামীকেই অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি ভক্তদের।
আরও পড়ুন:








