বৃহস্পতিবার

১৩ আগস্ট, ২০২৬ ২৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩

লোডশেডিংয়ে আপাতত অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:১৪

শেয়ার

লোডশেডিংয়ে আপাতত অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত

দেশে চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতিতে আপাতত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার এবং টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার কারণেই চলমান সংকট শুরু হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) মেরামত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আপাতত লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা এবং অপেক্ষা করা ছাড়া এখন আর কোনো উপায় নেই।

তিনি বলেন, এইটুকুই বলতে চাই, আমরা কাজ করছি। এই ক্রাইসিসের সময়ে আসলে এখন আমার কিছু করার নেই। কারণ, এখন আমি গ্যাসও উত্তোলন করতে পারব না বা এফএসআরইউ ছাড়া আমার যে গ্যাস আছে, সেটাও নামাতে পারব না।

সরাসরি কিছু করার সুযোগ সীমিত

বর্তমান ব্যবস্থাপনার কৌশল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বর্তমান প্রাতিষ্ঠানিক সংকটে সরাসরি কিছু করার সুযোগ সীমিত। কারণ, নতুন করে হঠাৎ গ্যাস উত্তোলন করা যেমন সম্ভব নয়, তেমনই এফএসআরইউ সচল না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান গ্যাস খালাস করে জাতীয় গ্রিডে দেওয়াও সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, বিদেশি প্রকৌশলীরা যতক্ষণ পর্যন্ত এফএসআরইউ মেরামত শেষ না করছেন, ততক্ষণ অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো গতি নেই। এখন শুধু দিন গোনা ছাড়া এবং ইঞ্জিনিয়াররা এফএসআরইউতে কাজ করছেন, এটা করা ছাড়া তার কিছু করার নেই। আর কম লোডশেডিং করার জন্য ব্যবস্থাপনা করা এবং যেন শিল্পে গ্যাস দেওয়া যায়, সেই ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে।

মেরামতে কাজ করছেন যুক্তরাজ্য-সিঙ্গাপুরের প্রকৌশলী

জ্বালানি মন্ত্রী আরও বলেন, এলএনজি টার্মিনাল মেরামতে যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরের প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। তবে মেরামত শেষে নতুন দুটি বয়লার একসঙ্গে চালু করতে হবে। কারিগরি সমন্বয়ের জন্য তখন পুরো সিস্টেমটি টানা ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিন বন্ধ রাখা লাগবে। এর প্রভাবে সাময়িকভাবে দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দেবে।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে একটি নতুন এফএসআরইউ-এর অর্ডার দেওয়া হয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টে আরও তিনটি এফএসআরইউ বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

শিল্পে গ্যাস-সংকট কমাতে বিকল্প নানান উপায় খোঁজা হচ্ছে। এর মধ্যে ভোলা থেকে কনটেইনার ট্রাকে করে গ্যাস কারখানায় পৌঁছে দিতে একটি কোম্পানিকে ৩০টি ট্রাক চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরাসরি কনটেইনারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের সুবিধা তৈরি করতে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলছে সরকার। তেল নিয়ে বিভিন্ন সময় গুজব ছড়ানোয় সংকট আরও বাড়ে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে একচেটিয়া তেলের ব্যবসা দেওয়া হচ্ছে না। বরং নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে যেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও তেল আমদানি করতে পারে, সে বিষয়ে একটি নতুন নীতিমালা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে সৌরবিদ্যুৎকে উৎসাহিত করতে সোলার ব্যাটারি ও ইনভার্টারের ওপর আমদানি শুল্ক কমিয়ে মাত্র ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এই খাতে পাঁচ বছরের ট্যাক্স হলিডে বা করছাড় সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

সিপিডির সংলাপে আরও যারা ছিলেন

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সভাপতিত্বে আয়োজিত সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র গবেষণা সহযোগী ফখরুদ্দিন আল কবির।

আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সাকিব বিন আমিন প্রমুখ।



banner close
banner close