বৃহস্পতিবার

১৩ আগস্ট, ২০২৬ ২৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩

নতুন আরও ৩ ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:৩২

শেয়ার

নতুন আরও ৩ ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা
ছবি সংগৃহীত

দেশব্যাপী জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২০২৯ সালের মধ্যে নতুন আরও তিনটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টে এসব ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কথা ভাবা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশ এখন এক ধরনের বিদ্যুতের ঘাটতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে রাতে বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেশি থাকে। এর একটি বড় কারণ অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত রিকশার চার্জিং।

তিনি জানান, বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে বহুমুখী প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। জ্বালানি খাতে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। কিছু বিষয় সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলেও দিনরাত এ নিয়ে কাজ চলছে এবং খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, শিল্প খাতে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ ও সংকট কাটিয়ে উঠতে ইতোমধ্যে তিনবার শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে সরকার।

এই কঠিন সময়ে কাজের গতি ত্বরান্বিত করতে সবার নৈতিক সমর্থন আহ্বান জানান তিনি।

একইসঙ্গে নবায়নযোগ্য শক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে জাতীয় পর্যায়ের বিশাল বিদ্যুৎ ঘাটতি অনেকাংশে কমে আসবে। সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সুযোগ ও উৎসকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

শিল্পকারখানা সচল রাখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ইন্ডাস্ট্রি না চললে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থমকে যাবে। তাই সরকার সব দিক থেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটে শিল্প খাতের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ। তিনি বলেন, রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধের সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের আয় কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ইতোমধ্যে কারখানাগুলোর উৎপাদন ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।

একইসঙ্গে এই ব্যবসায়ী নেতা আরও বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিকঠাক না থাকলেও বিল ও কর্মীদের বেতন নিয়মিত পরিশোধ করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শিল্পমালিকদের লোকসান ও দায় কে নেবে? সরকার পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু তার খেসারত জনগণ বা ইন্ডাস্ট্রি কেন দেবে?

অবিলম্বে উদ্যোক্তাদের সমস্যার সমাধান ও প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।



banner close
banner close