বুধবার

১২ আগস্ট, ২০২৬ ২৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩

বাংলাদেশের ক্রিকেটে ভারতীয় চর কারা?

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ১২ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:২২

আপডেট: ১২ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:২২

শেয়ার

বাংলাদেশের ক্রিকেটে ভারতীয় চর কারা?
ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশের ক্রিকেটে ভারতীয় চর কারা? ভারতকে খুশি করতে ব্যস্ত তামিম, মুশফিক, লিটনরা? বাংলাদেশের ক্রিকেটে কি জাতীয় স্বার্থের চেয়ে ভারতঘনিষ্ঠতা ও ব্যক্তিস্বার্থ বড় হয়ে উঠেছে? ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়া, আর সামনে ভারতের বাংলাদেশ সফর, এসব ইস্যুতে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনের কয়েকজন তারকা ও কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।

অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত ও মোস্তাফিজুর রহমান

অন্তর্বর্তী সরকারের ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দল না পাঠানোর বিষয়টি সামনে এনেছেন তিনি। তাঁর দাবি, মোস্তাফিজুর রহমান কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে চুক্তি করার পর, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের চাপে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার ঘটনাই দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের বিরোধের সূত্রপাত। যা নিয়ে ক্ষিপ্ত ছিলো দেশের সাধারণ মানুষও।

মাহমুদুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তার অজুহাতে মোস্তাফিজের চুক্তি বাতিল করা হলেও, তাকে কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়নি। এরপর বাংলাদেশ সরকার ভারতের বাইরে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ জানালে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সম্মানের প্রশ্নে বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে অনেকেই।

ক্রিকেটারদের ভূমিকায় কঠোর সমালোচনা

লেখায় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ভূমিকাও কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন মাহমুদুর রহমান। তাঁর অভিযোগ, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ক্রিকেট অঙ্গনের একটি অংশ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে পড়েছিল। জুলাই আন্দোলনের সময়ও কথিত তারকা ক্রিকেটারদের বড় অংশ জনগণের পাশে দাঁড়ায়নি। বরং, তোষামোদি করেছে হাসিনার।

মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার ঘটনায় ক্রিকেটারদের জোরালো প্রতিবাদ না করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে লেখায়। জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড় অপমানিত হলেও, অন্যরা তার পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো সুবিধাবাদী স্ট্যান্ড নিয়েছিলো।

এক্ষেত্রে, লিটন দাস ও তামিম ইকবালের বক্তব্যকে উদাহরণ হিসেবে এনেছেন তিনি। লিটন দাসের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে মাহমুদুর রহমান লিখেছেন, খেলোয়াড়দের বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্তে সরাসরি ভূমিকা ছিল না এবং সরকার নিরাপত্তার কারণ দেখিয়েছিল। অন্যদিকে, এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানে খেলার বিষয়েও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কিত হয়েছিলেন লিটন দাস।

একইভাবে, তারকা ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম এর আগে পাকিস্তান সফর সফর বয়কট করে হাসিনা সরকারকে বেশ সন্তুষ্ট করেছিলেন বলেও, লেখায় তুলে ধরেন মাহমুদুর রহমান। বর্তমান, বিসিবির প্রেসিডেন্ট ও আরেক তারকা খেলোয়াড় তামিম ইকবালও, বিশ্বকাপ বয়কট প্রসঙ্গে ভারতকে তোষামোদ করেই বক্তব্য দিয়েছিলেন, এমনটাও লেখায় উল্লেখ করেন আমার দেশের সম্পাদক।

সাকিব আল হাসান নিয়ে সমালোচনা

লেখায় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ভূমিকাও কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন মাহমুদুর রহমান। তাঁর অভিযোগ, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ক্রিকেট অঙ্গনের একটি অংশ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে পড়েছিল। জুলাই আন্দোলনের সময়ও কথিত তারকা ক্রিকেটারদের বড় অংশ জনগণের পাশে দাঁড়ায়নি। বরং, তোষামোদি করেছে হাসিনার।

এসব সমালোচনার পেছনে মাহমুদুর রহমান আরও বড় একটি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন। তাঁর অভিযোগ, ফ্যাসিবাদের পতনের পর বাংলাদেশকে চাপে ফেলতে ভারত বিভিন্ন ইস্যুর পাশাপাশি ‘ক্রিকেট কার্ডও ব্যবহার করতে পারে। এখানেই সামনে এসেছে ভারতীয় ক্রিকেট দলের নির্ধারিত বাংলাদেশ সফর।

ভারতের বাংলাদেশ সফর নিয়ে আশঙ্কা

আশঙ্কা রয়েছে, ভারত কোনো অজুহাতে এই সফর স্থগিত করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় যেন ভারতের কাছে নতজানু না হয়। বরং ভারতকে দ্রুত সফরের বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করতে বলার পক্ষে তিনি। কোনো নেতিবাচক সিদ্ধান্ত এলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের মাধ্যমে, নিরপেক্ষ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ দল এনে বাংলাদেশের পরিস্থিতি যাচাই করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে, পাকিস্তানের উদাহরণ টেনে মাহমুদুর রহমান বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বিরোধে পাকিস্তান বাংলাদেশকে সমর্থন করেছিল। এমনকি বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তান ভারতীয় বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকিও দিয়েছিল।

ভারতের সঙ্গে ক্রিকেটীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আর যদি দেশের ক্রিকেটের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ভারতের স্বার্থের কাছে আত্মসমর্পণ করেন, তাহলে জনগণকেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, এমন আহ্বানও রয়েছে তার লেখায়।

ক্রিকেট শুধু খেলা নয়; জাতীয় মর্যাদা ও স্বার্থের সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে। আর বাংলাদেশের ক্রিকেটে যারা জাতীয় স্বার্থের চেয়ে ভারতীয় স্বার্থ, ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার কিংবা অর্থনৈতিক সুবিধাকে প্রাধান্য দিচ্ছে, তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।



banner close
banner close