যখন যেমন তখন তেমন শাহেদ আলম! তারেক রহমানের বন্দনায় শাহেদ আলম; অতীতের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন। ‘বহুরূপী’ শাহেদ আলম। অতীতে তীব্র বিষোদগারের অভিযোগ থাকলেও, বর্তমানে তারেক রহমানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ সাংবাদিক শাহেদ আলম।
তারেক রহমানের সাদাসিধে জীবনযাপন নিয়ে উচ্ছ্বাস
তারেক রহমানের হাতের স্পর্শে নাকি এক অনন্য উষ্ণতা! তিনবেলার বদলে দুইবেলা আহার, সাধারণ সাদা শার্ট পরা, তারেক রহমানের এমন সাদাসিধে জীবনযাপন ও দূরদর্শী ভাবনা বা 'ভিশন' দেখে রীতিমতো অভিভূত ও ‘ইলেকট্রিফায়েড’ সাংবাদিক শাহেদ আলম!
অতীতের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য
অথচ, অতীতের বিভিন্ন বক্তব্যই সাক্ষ্য দেয়, এই শাহেদ আলম সুযোগ ও সময় বুঝে অবস্থান বদলাতে বেশ পটু। আজ যিনি তারেক রহমানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ, কিছুদিন আগেও তিনিই তারেক রহমান, খালেদা জিয়া এবং বিএনপিকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও বিষোদগারে লিপ্ত ছিলেন।
নেটিজেনদের অভিমত, যখন যেমন সুবিধা, তখন তেমন বক্তব্য দেয়া শাহেদ আলমের এক ধরনের সুবিধাবাদী কৌশলেরই অংশ। আর তাই একই ইস্যুতে বিভিন্ন সময়ে তাঁর পরস্পরবিরোধী ও দ্বিমুখী বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই চলে তুমুল সমালোচনা। তারেক রহমানের আয়ের একটা অংশ আসে জুয়া খেলে, শাহেদের এমন বিতর্কিত মন্তব্যেরও কঠোর সমালোচনা হয়েছে নানা সময়ে।
গ্রেনেড হামলা ও নীরবতার অভিযোগ
এসব দ্বিমুখী অবস্থানের পাশাপাশি এই সাংবাদিক নতুন করে আবার আলোচনায় এসেছেন ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলা সংক্রান্ত তাঁর পুরোনো বক্তব্যের কারণে, যেখানে তিনি ওই ঘটনার জন্য তারেক রহমানকে সরাসরি কাঠগড়ায় তুলেছিলেন।
এ ছাড়া বর্তমানে শাহেদ আলম তারেক রহমানকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত হলেও, একসময় নীরব থাকার অভিযোগে, বর্তমান বিএনপি চেয়ারম্যানের কড়া সমালোচনা করেছিলেন তিনি। সচেতন মহলের মতে, শাহেদ আলম যতটা নিষ্ক্রিয়তার কথা বলেছেন, বাস্তব পরিস্থিতি তেমন ছিল না; বরং ব্যক্তিগত অপছন্দের জায়গা থেকেই তিনি এমন বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন।
বিএনপির দুর্বলতা ও কটাক্ষ
আজ যিনি তারেক বন্দনায় ব্যস্ত, সেই তিনিই কয়েক বছর আগে নিজের ব্লগে দাবি করেছিলেন, তারেক রহমান ও বিএনপি নাকি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল দলে পরিণত হয়েছে।
এমনকি, তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের দলীয় পদমর্যাদা নিয়েও সেসময় কটাক্ষ করতে পিছপা হননি শাহেদ।
বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির গুণগান গাইলেও, অতীতে দলটি ক্ষমতায় এলে দেশের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি কেমন হবে, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছিলেন এই সাংবাদিক।
একটি ভিডিওতে কাচের খালি বোতল প্রদর্শন করে বিএনপিকে ‘বোতলবন্দি’ দলের সঙ্গেও তুলনা করেছিলেন তিনি।
শুধু তাই নয়, তারেক রহমানের চেয়ে সজীব ওয়াজেদ জয়ের জনপ্রিয়তা বেশি, এমন মন্তব্যও করতে দেখা গেছে তাকে।
আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য মন্তব্য
পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে শাহেদ আলমের বক্তব্যে আওয়ামী লীগ ও শেখ মুজিবের প্রতি অনুরাগ বা প্রীতিও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
একইভাবে, শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে শাহেদ আলমের একটি মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা সহজভাবে নেয়নি। এক ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, হাদি বেঁচে থাকলে নির্বাচনে মাত্র কয়েকশো ভোট পেতেন। অথচ নেটিজেনদের যুক্তি ছিলো, ঢাকা-৮ আসনে যেখানে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বিএনপির বিপরীতে প্রায় ৫৫ হাজার ভোট পেয়েছেন, সেখানে ইনসাফের পক্ষে, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবং জুলাই আন্দোলনের সামনের সারির যোদ্ধা হিসেবে তুলনামূলক জনপ্রিয় ওসমান হাদি নির্বাচনে দাঁড়ালে আরও অনেক বেশি জনসমর্থন পেতেন।
এ ছাড়া ভিন্নমতের রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেও সমালোচিত হয়েছেন সাংবাদিক শাহেদ আলম। অনেকের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তী সময়ে দেশের পক্ষে যারা ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে, তাদের নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার চালিয়েছে তিনি।
ধর্ম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য
শুধু রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নন, ধর্ম নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করতে দেখা গেছে তাঁকে। ‘মুসলমানরা যেখানে যায় সেখানেই মসজিদ বানায়, আর এটি এক ধরনের ‘ধান্দা’, ধর্মীয় বিষয়ে এমন আপত্তিকর মন্তব্যও এসেছে শাহেদ আলমের থেকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এ ধরনের সুবিধাবাদী ব্যক্তিদের কারণে ভবিষ্যতে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই দেশ ও দলের বৃহত্তর স্বার্থে, এমন বহুরূপী মানুষদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান সচেতন মহলের।
আরও পড়ুন:








