মঙ্গলবার

১১ আগস্ট, ২০২৬ ২৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩

৩৫ বছর পর আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট, ২০২৬ ১০:১০

শেয়ার

৩৫ বছর পর আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট
ছবি সংগৃহীত

সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে প্রথমবার ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিল বাংলাদেশে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে দেশ। তবে এবার সাধারণ ভোটাররা সরাসরি ভোট দিতে পারবেন না; সংসদ সদস্যদের ভোটেই নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি।

১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীকে পরাজিত করেন। আবদুর রহমান বিশ্বাস পেয়েছিলেন ১৭২ ভোট, আর বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

সেই সময় পঞ্চম জাতীয় সংসদে বিএনপির ১৪০টি, আওয়ামী লীগের ৮৮টি, জাতীয় পার্টির ৩৫টি, জামায়াতে ইসলামীর ১৮টি, বাকশালের ৫টি ও সিপিবির ৫টি আসন ছিল। এছাড়া ইসলামী ঐক্যজোট, ন্যাপ, গণতন্ত্রী পার্টি, এনডিপি, জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির একজন করে সদস্য ছিলেন। সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ছিল ৩০টি।

ওই নির্বাচনে ৬০ জন সংসদ সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন। জাতীয় পার্টি নির্বাচন বয়কট করে। জামায়াতে ইসলামী ও সিপিবির সদস্যরা ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। বিভিন্ন দলের আরও কয়েকজন সংসদ সদস্যও ভোট দেননি।

স্বতন্ত্র সদস্য নুরুল ইসলাম মনি ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আবদুর রহমান বিশ্বাসকে ভোট দেন। অন্যদিকে গণতন্ত্রী পার্টির সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ভোট দেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীকে। আওয়ামী লীগের আকতারুজ্জামান বাবু ভোট দিতে সংসদে উপস্থিত হননি।

এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট কর্নেল (অব.) আলি আহমদকে প্রার্থী করেছে। এরই মধ্যে তাঁর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। বিএনপিও তাদের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। তবে ক্ষমতাসীন দলটি এখনো তাদের দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩৫০ আসনের মধ্যে স্বতন্ত্র সদস্য বাদে ১০টি দলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। বিএনপির ২৪৭টি, জামায়াতে ইসলামীর ৭৭টি, এনসিপির ৮টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩টি আসন রয়েছে। এছাড়া কয়েকটি দলের একজন করে সংসদ সদস্য রয়েছেন। স্বতন্ত্র সদস্য রয়েছেন ৮ জন।

ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোন প্রার্থী কত ভোট পাবেন এবং শেষ পর্যন্ত কে নির্বাচিত হবেন, তা নির্ধারণে সংসদে দলগুলোর আসনসংখ্যাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচিত হলে তিনি হবেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।



banner close
banner close