জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকছে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য নতুন আচরণবিধির খসড়া চূড়ান্ত করে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সোমবার ইসি সচিব আখতার আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচনের আচরণবিধি কমিশনে অনুমোদিত হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
ইসি সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠানের বিধান রেখে গত জুলাইয়ে আইন পাস হওয়ার পর আচরণবিধি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০১৬ সালের আচরণবিধির পরিবর্তে এবার পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য নতুন আচরণবিধি করা হচ্ছে। খসড়া প্রকাশ করে মতামত নেয়ার পর তা পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
নতুন আচরণবিধিতে পোস্টার বাদ দেয়া হলেও ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ব্যবহারের সুযোগ থাকছে। প্রথমবারের মতো বিলবোর্ড ব্যবহারেরও অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে এসব প্রচারসামগ্রীর আকার নির্দিষ্ট করে দিয়েছে ইসি।
ব্যানারের সর্বোচ্চ আকার ১০ ফুট বাই ৪ ফুট, লিফলেট ও হ্যান্ডবিল এ-ফোর আকারের, ফেস্টুন ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি এবং বিলবোর্ড সর্বোচ্চ ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট হতে পারবে। প্রচারসামগ্রী সাদাকালো রঙের হতে হবে। প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা ছয় ফুটের বেশি করা যাবে না।
বিলবোর্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রেও স্তরভেদে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। পৌরসভাতেও প্রতি ওয়ার্ডে একটি বিলবোর্ডের সুযোগ থাকবে। উপজেলা নির্বাচনে সর্বোচ্চ ২০টি এবং জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারের সুযোগ থাকছে। তবে এসব প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অপব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের ব্যয়ও প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে দেখাতে হবে।
নতুন আচরণবিধিতে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের প্রচারণায় অংশ নেয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়েছে। মেয়র, চেয়ারম্যান, প্রশাসক বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না।
মাইকে প্রচারের সময়ও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মাইক, ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনে প্রচার চালানো যাবে। একাধিক মাইক্রোফোন ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না।
প্রচারসামগ্রীতে প্রার্থীর ছবি ও নির্বাচনী প্রতীক ছাড়া অন্য কিছু ব্যবহার করা যাবে না। জীবন্ত প্রাণী প্রচারণায় ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিলে পলিথিনের আবরণ বা পিভিসি ব্যবহার করা যাবে না।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের শাস্তিও বাড়ানো হয়েছে। সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানার পরিমাণ ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রার্থিতা বাতিলের বিধানও নতুন আচরণবিধিতে রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন:








