চিত্রনায়ক সালমান শাহকে হত্যার জন্য খলনায়ক ডনের সঙ্গে ১২ লাখ টাকায় চুক্তি করেছিলেন শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই। রবিবার ঢাকার আদালতে ডনকে হাজির করা হলে শুনানিতে এমন বিস্ফোরক দাবি করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
আদালতে নতুন তথ্য
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ইস্কাটনের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল মাত্র ২৫ বছর বয়সী মহানায়ক সালমান শাহ’র মরদেহ। সেদিনের সেই ঘটনা যে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিলো, তা এবার আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরলেন মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী। তিনি জানান, অন্য একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় রিজভী আহমেদ নামের এক আসামির স্বীকারোক্তিতে এই হত্যার পেছনের কালো অধ্যায়টি উঠে এসেছে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, সালমানের স্ত্রী সামিরার সঙ্গে প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের গোপন সম্পর্ক ছিলো। আর সেই সম্পর্কের জের ধরেই আজিজ মোহাম্মদ ভাই পথের কাঁটা সরাতে টাকার বিনিময়ে ডনের সাথে খুনের চুক্তি করেন।
ডনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ
রবিবার, আদালতে ডনের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। অন্যদিকে, আসামিকে আদালতে হাজির করে সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান জানান, আশরাফুল হক ডন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। জামিনে মুক্তি পেলে তার পুনরায় পালিয়ে যাওয়া এবং তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের অনুসন্ধান
দীর্ঘ এই সময়ে মামলাটি অন্ধকারে ঢাকা থাকলেও, পর্দার পেছনের অন্ধকার চক্রান্তের জট খুলতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।
সেই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনেও সুস্পষ্টভাবে উঠে এসেছিল, কীভাবে ডনসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা মিলে পরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ডকে নিপুণভাবে আত্মহত্যার নাটক হিসেবে সাজিয়েছিল। এমনকি, কে কাকে কীভাবে এবং কতো টাকা দিয়ে এই কিলিং মিশন বাস্তবায়ন করেছিল, তারও বিস্তারিত বিবরণ ছিল ওই প্রতিবেদনে।
অবশেষে ডনের কারাবাস এবং আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের দেয়া নতুন এই তথ্যের ভিত্তিতে, সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের সেই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটিই যেন বিচারপ্রার্থীদের কাছে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক ও নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠেছে। এখন দেখার অপেক্ষা, এই নতুন মোড়ের পর সালমান শাহ হত্যার চূড়ান্ত বিচার কোন পথে গড়ায়।
আরও পড়ুন:








