আরেকজনকে ফাঁসাতে যেয়ে নিজেই ফেঁসে গেলেন অভিনেত্রী স্নিগ্ধা! স্নিগ্ধা চৌধুরীর অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে দুদক। স্নিগ্ধার সম্পদ নিয়ে অভিযোগ। ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরীর অবৈধ সম্পদ নিয়ে দুদকে অনুসন্ধানের অভিযোগ।
বাংলাদেশি অভিনেত্রী ও মডেল স্নিগ্ধা চৌধুরী। যিনি কিছুদিন আগেই আশিয়ান সিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূইয়ার বিরুদ্ধে এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যাচেষ্টা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে দেশজুড়ে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন।
সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই তাকে ঘিরে আবারও শুরু হয়েছে নতুন বিতর্কের রোল। বিতর্ক আর স্নিগ্ধা, উভয়েই যেন একই সুতোয় বাঁধা।
দুদকে অভিযোগ দায়ের
জানা যায়, এই মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরীর বিলাসবহুল জীবনযাত্রার আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে, তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, আরেকজনকে গর্তে ফেলতে গিয়ে এখন নিজেই সেই গর্তে পড়েছেন অভিনেত্রী স্নিগ্ধা।
রবিবার (৯ আগস্ট) রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা মইনুদ্দিন আহমদ দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর এ আবেদন জমা দেন বলে জানা যায়। দৃশ্যমান কোনো বড় আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও স্নিগ্ধা চৌধুরীর দীর্ঘদিনের বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়ে ওই অভিযোগপত্রে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি একটি মাত্র সিনেমা, হাতে গোনা কয়েকটি বিজ্ঞাপন ও র্যাম্প শোতে অংশ নিয়েও, তার দামি গাড়ি ব্যবহার এবং বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস, এসব তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়াও, অভিযোগপত্রে স্নিগ্ধা চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইলিং, অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন, মাদক ও স্বর্ণ চোরাচালানের মতো গুরুতর অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে। দেশ-বিদেশের একাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসীর সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।
নজরুল ইসলাম ভূইয়ার বিরুদ্ধে আগের অভিযোগ
এর আগে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই অভিনেত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে আশিয়ান সিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূইয়ার বিরুদ্ধে তার ওপর হওয়া শারীরিক নির্যাতন ও দমন-পীড়নের মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে নানা আলোচনা ও সমালোচনার মুখে পড়েন। স্নিগ্ধা চৌধুরী দাবি করেন, নজরুল ইসলাম তার হাত-পা বেঁধে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন।
তবে সমালোচকরা প্রশ্ন তোলেন, রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হলে শরীরে তার দৃশ্যমান কোনো চিহ্ন থাকার কথা, কিন্তু তেমন কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি। একইভাবে, গলা চেপে ধরলে সেখানে দাগ থাকার কথা ছিল, কিন্তু গলাতেও কোনো দৃশ্যমান দাগ না থাকায় তার বক্তব্য ঘিরে নেটদুনিয়ায় তৈরি হয় ধোঁয়াশার আবহ।
সেই সংবাদ সম্মেলনে স্নিগ্ধা আরও দাবি করেন, তাকে খাওয়ার জন্য কফি দেয়া হলে নজরুল ইসলাম সেই গরম কফি তার মুখে ঢেলে দেন। এ সময় নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার পিএস সোভাও উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।
কিন্তু এখানেই তৈরি হয় এক ধোঁয়াশাচ্ছন্ন ঘন কালো মেঘ, যার আবরণে লুকিয়ে আছে বড় ধরনের স্ববিরোধিতা। সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যের সঙ্গে বাংলা এডিশনকে দেয়া তার অডিও সাক্ষাৎকারে পাওয়া যায় স্পষ্ট অমিল। সেখানে তিনি দাবি করেন, নজরুল ইসলাম নয়, বরং তার পিএস সোভাই তার মুখে গরম কফি ঢালেন।
একই ঘটনায় দুই ভিন্ন বক্তব্য, কখনো নজরুল ইসলাম, আবার কখনো তার পিএস, এই দ্বিমুখী অবস্থান শুধু স্নিগ্ধাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেনি, বরং পুরো ঘটনাটিকেই ঠেলে দিয়েছে এক গভীর সংশয়ে।
এছাড়াও সংশ্লিষ্টরা বলে, যদি সত্যিই গরম কফিতে চেহারা দগ্ধ হয়ে থাকে, তবে মুখে পোড়া দাগ থাকার কথা। মেডিকেল তথ্যমতে, এমন ক্ষত সারতে অন্তত ৭ দিন সময় লাগে। অথচ ঘটনার তিনদিন পর স্নিগ্ধার মুখে তেমন কোনো চিহ্ন তো দূরের কথা, সামান্য লালচেও ভাবও দেখা যায়নি। ফলে, তার এই স্ববিরোধী বক্তব্য পুরো ঘটনাটিকেই অনেকের কাছে সুচারুভাবে নির্মিত এক নাট্যমঞ্চ বলে মনে হয়েছে।
বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন
সেই সংবাদ সম্মেলনে নিজের বিলাসবহুল জীবনযাপনের বিষয়টিও তুলে ধরেন স্নিগ্ধা। তিনি দাবি করেন, তার গাড়ি মিরপুরে ঢুকবে না এবং গত ছয় বছর ধরে বনানীতেই বসবাস করছেন এই অভিনেত্রী।
এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, অল্প সময়ের ক্যারিয়ারে কীভাবে এমন বিলাসবহুল জীবনযাপন সম্ভব? কীভাবে এমন গাড়ির মালিক হলেন তিনি? এ নিয়ে জনমনে তৈরি হয় নতুন ধোঁয়াশা।
তবে এ বিষয়ে বাংলা এডিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ভিন্ন দাবি করেন স্নিগ্ধা। তিনি বলেন, তার বাসা বিলাসবহুল নয়; বরং বনানীতে ৫০ হাজার টাকা ভাড়ায় থাকেন এবং তার গাড়িটিও একটি সাধারণ গাড়ি, যার দাম ২৮ থেকে ৩০ লাখ টাকা।
কল রেকর্ড। ৭.৩৩-৭.৪৫। আগের প্যাকেজ থেকে। একই বিষয়ে দুই ধরনের বক্তব্য নেটিজেনদের মাঝে শুধু ধোঁয়াশাই তৈরি করেনি, বরং নতুন করে জন্ম দিয়েছে অসংখ্য প্রশ্ন।
অপরদিকে স্নিগ্ধা আরও দাবি করেন, নজরুল ইসলাম তাকে মদ্যপানের শর্ত দেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে তার দাবি, মদের গন্ধও সহ্য করতে পারেন না তিনি।
অথচ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একাধিক ছবি পাওয়া যায়। যেসব ছবি দেখিয়ে, ওই গ্লাসকে মদের গ্লাস বলেই সমালোচনা করে নেটিজেনরা।
সবমিলিয়ে বিশ্লেষকদের দাবি, স্নিগ্ধা চৌধুরীর এক বক্তব্যের সঙ্গে আরেক বক্তব্যের মিল না থাকা পুরো ঘটনাটিকেই ঘোলাটে করে তোলে। এই অবস্থায়, আশিয়ান সিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূইয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের এক মাসও না পেরোতেই দুদকের কাছে পৌঁছে গেছে স্নিগ্ধার বিরুদ্ধে অভিযোগ। সংশ্লিষ্টদের ভাষায়, এ যেন সেই চিরচেনা প্রবাদ, ‘অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়লে, একদিন নিজেকেই সেই গর্তে পড়তে হয়।‘
আরও পড়ুন:








