রবিবার

৯ আগস্ট, ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩

সালমান হত্যায় ডনকে নিয়ে তিন বছর আগে যা বলেছিলেন সাংবাদিক ইলিয়াস

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ৯ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৩৫

শেয়ার

সালমান হত্যায় ডনকে নিয়ে তিন বছর আগে যা বলেছিলেন সাংবাদিক ইলিয়াস
ছবি বাংলা এডিশন

মৃত্যুর দীর্ঘ তিন দশক পর ঢাকাই চলচ্চিত্রের রাজপুত্র সালমান শাহর মৃত্যু-রহস্যে এসেছে নতুন মোড়। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার অন্যতম আসামি খল-চরিত্রের অভিনেতা ডনকে গ্রেপ্তার করেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ। রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসান তালুকদার।

ডনকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসতে পারে অজানা অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে জোরালো দাবি জানিয়েছে বাদীপক্ষ।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ বাংলা এডিশনকে বলেন এসব তথ্য।

শুধু আসামিকে গ্রেপ্তারই নয় আত্মহত্যার দাবি উড়িয়ে দিয়ে সত্য অনুসন্ধানে সালমানের মরদেহ সম্প্রতি কবর থেকে তোলার নির্দেশও দিয়েছিল আদালত। সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এই যুগান্তকারী আদেশ দেন। একইসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে নতুন করে সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত কবর থেকে তোলা হয়নি মরদেহ। বাতিল করা হয় আদেশ।

এই অবস্থায় ফিরে দেখা যাক ইতিহাসের সেই কালো অধ্যায়। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ইস্কাটনের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় মাত্র ২৫ বছর বয়সী এই মহানায়কের মরদেহ। শুরু থেকেই পরিবার ও কোটি ভক্তের দাবি ছিল এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

একাধিক তদন্ত সংস্থা সালমানের হত্যা মামলার তদন্ত করে। সর্বশেষ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল যা শুরু থেকেই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত। সালমান শাহর পরিবারের দীর্ঘ লড়াই এবং আদালতের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে সেই অপমৃত্যুর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।

মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর পর গত বছর এই ঘটনাকে হত্যা হিসেবে আমলে নিয়ে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন ঢাকা মহানগরের ষষ্ঠ অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হককে। অন্য আসামিরা হলেন প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই শাশুড়ি লতিফা হক লুসি ডন ডেভিড জাভেদ ফারুক রুবি আবদুস সাত্তার সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ।

প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমানের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে তার ভক্তরা।

দীর্ঘ এই সময়ে মামলাটি অন্ধকারে ঢাকা থাকলেও পর্দার পেছনের অন্ধকার চক্রান্তের জট খুলতে বড় ভূমিকা রাখে অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের এক দীর্ঘ প্রতিবেদন।

সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন তাঁর ওই প্রতিবেদনে দেখিয়েছেন এই রহস্যজনক মৃত্যুর পেছনে কারা জড়িত ছিল। খলনায়ক ডনসহ কারা কীভাবে জড়িত ছিল এবং কীভাবে পুরো ঘটনাকে আত্মহত্যার নাটক বানানো হয়েছিল তাও উঠে আসে সেখানে।

এছাড়া ওই সাংবাদিকের সঙ্গে সরাসরি এক আলোচনায় সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ছেলে হত্যার বিষয়ে খুলেছেন মনের জট প্রকাশ করেছেন দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য।

বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালীদের চাপে সত্য চাপা পড়ে থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশের বিচার বিভাগে তৈরি হয়েছে নতুন আবহ। সেই প্রেক্ষাপটেই মামলাটি পুনর্তদন্তের এই ঐতিহাসিক উদ্যোগে ন্যায়বিচারই এখন একমাত্র চাওয়া সালমান ভক্তদের।



banner close
banner close