সোমবার

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩ আশ্বিন, ১৪৩৩

সর্বশেষ
বাংলাদেশের উন্নয়নে চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে: চীনের রাষ্ট্রদূত সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও তিন জনের মৃত্যু; আক্রান্ত এক হাজার ৩১০ হবিগঞ্জে ৫৫ বিজিবির পৃথক অভিযান সাত লাখ ২৯ হাজার টাকার ভারতীয় গরু-মদ জব্দ সারিয়াকান্দিতে এলজিইডির এলসিএস প্রকল্পে ‘নাম বদলের খেলা’, লুটেপুটে খাচ্ছে সিন্ডিকেট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে আইনশৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়: নাহিদ ইসলাম হবিগঞ্জে স্কুলছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ, মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার ভারতে মসজিদ ভাঙতে গিয়ে বিপত্তি, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

আতংকের নতুন নাম ‘উত্তরা’ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নিরলস চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:০৫

শেয়ার

আতংকের নতুন নাম ‘উত্তরা’ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নিরলস চেষ্টা
ছবি এআই মাধ্যমে তৈরি

সূর্য ডুবলেই বদলে যায় শহরের চরিত্র। নিয়ন আলোর নিচে যেখানে আধুনিকতার উদযাপন হওয়ার কথা সেখানে এখন চলে মৃত্যুর মহড়া। সত্তরের দশকে রাজধানীর জনজট কমাতে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ভরাট করে যে উত্তরা মডেল টাউনের জন্ম তা আজ এক মেগাসিটি।

মেট্রোরেল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে আর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সুবাদে বৃহত্তর উত্তরা এখন দেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক ও যোগাযোগ হাব। কিন্তু দিনের এই ঝকঝকে কর্পোরেট রূপের আড়ালে রাত বাড়তেই এলাকাটি পরিণত হয় মাদক আর কিশোর গ্যাংয়ের এক অলিখিত অভয়ারণ্যে।

সন্ধ্যার পর এখানকার মদের বারগুলোতে উপচে পড়া ভিড় আর মাদকের সহজলভ্যতায় পথ হারোচ্ছে তরুণ সমাজ। নেশার টাকার ভাগাভাগি এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের রাতের ঘুম হারাম করেছে বেপরোয়া কিশোর গ্যাং।

মাদকের এই বিষবাষ্পের চরম পরিণতি খুন। বাংলা এডিশনের অনুসন্ধান বলছে গত দুই বছরের পুলিশের পরিসংখ্যান রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে বৃহত্তর উত্তরায় খুন হয়েছেন অন্তত ৩২ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর অবস্থা দক্ষিণখান থানার যেখানে প্রাণ গেছে ১৮ জনের। এছাড়া উত্তরা পশ্চিমে ৬টি তুরাগে ৪টি এবং উত্তরা পূর্ব ও উত্তরখান থানায় ঘটেছে ২টি করে খুনের ঘটনা।

খুনের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ধর্ষণের ঘটনাও। এতে নারীরাও রাস্তাঘাটে চলাচলে সবসময় অনেকটাই আতঙ্কিত থাকেন।

বিগত দিনে প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে চলেছে এই রামরাজত্ব এমন প্রশ্নে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন দুষছেন অতীতের রাজনৈতিক প্রভাবকে।

তবে পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা তারেক বেগের দাবি আগের চেয়ে অপরাধের সংখ্যা কমে এসেছে অনেক। অপরাধীদের ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিশ্লেষকরা মনে করছে শুধু পুলিশি পদক্ষেপে এই সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা অসম্ভব। পারিবারিক অনুশাসন আর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে না তুললে কেবল দালানকোঠা দিয়ে একটি সুস্থ নগরী টিকিয়ে রাখা যায় না। এমতাবস্থায় এখনই যদি লাগাম টানা না যায় তবে আগামী প্রজন্মের কাছে আধুনিক এই উত্তরা হয়তো কেবলই এক অনিরাপদ মৃত্যুপুরী হিসেবে পরিচিত হবে।