ড. ইউনূস। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর দায়িত্ব নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে। এ সময়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে তার নামে। এবার ওই সরকারের সাবেক এই প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুললেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন।
সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন শুক্রবার তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলের আলোচিত অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান ফিফটিন মিনিটসে তুলে ধরেছেন ডক্টর ইউনূসের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ।
ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায় ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ সরকারের অধ্যাদেশের মাধ্যমে ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়। যে ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাই হয়েছিল হতদরিদ্র মানুষদের কোনো প্রকার জামানতবিহীন ঋণ দেয়ার মতো মানবিক কাজকে সামনে রেখে সেই ব্যাংকই হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষের গলার এক অবিচ্ছিন্ন কাঁটা। সমালোচনা রয়েছে এই মানবিক উদ্যোগের আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর বাস্তবতা। অভিযোগ উঠেছে হতদরিদ্র মানুষরা ঋণ নেয়ার পর সঠিক সময়ে তা ফেরত দিতে না পারলে তাদের ওপর নেমে আসত এক দুর্বিষহ পরিস্থিতি।
অভিযোগ করা হয় মানবিক এই ব্যাংকের আড়ালে গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে চালানো হতো সাধারণ অসহায় মানুষের রক্তচোষা এক সাঁড়াশি অভিযান। অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় কঠোর সব শর্ত চাপিয়ে দেয়া হতো তাদের ওপর। প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করেছেন সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন।
ড. ইউনূসের মানবিক ব্যাংকখ্যাত গ্রামীণ ব্যাংকের এসব নিপীড়নের কারণে গ্রামের অসহায় ঋণগ্রস্ত মানুষগুলো তাদের ঋণের অসহনীয় বোঝা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথও বেছে নিয়েছে এমন অমানবিক তথ্যও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।
তথ্য অনুযায়ী গ্রামীণ ব্যাংকে প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই এতে বিদেশি দাতা সংস্থার বিশাল বিনিয়োগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিদেশি সংস্থাগুলো কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে বলে জানা যায়। কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংকের কান্ডারী ড. ইউনূসকে নিয়ে অভিযোগের তীর আরও তীক্ষ্ণ। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি অধ্যাদেশে প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকের ক্ষেত্রে দাতা সংস্থার অর্থ অনুদান হিসেবে এলে তার লভ্যাংশ ঋণগ্রহীতা ও সরকারের মাঝে বণ্টন করার কথা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে এই লভ্যাংশ ও দাতাদের অর্থ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যেই ড. ইউনূস সোশ্যাল ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড এবং পরবর্তীতে গ্রামীণ ফান্ড গঠন করেন।
অপরদিকে গ্রামীণ ব্যাংকের অর্থ ড. ইউনূসেরই অপর দুই প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ফান্ড এবং গ্রামীণ কল্যাণে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফিফটিন মিনিটস থেকে জানা যায় সরকারি অধ্যাদেশের সীমাবদ্ধতার কারণে সরাসরি প্রভাব বিস্তার সম্ভব না হওয়ায় বিকল্প এই পথ বেছে নেয়া হয়।
সেইসঙ্গে সরকারি ট্যাক্সের লাখ লাখ টাকার কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। জানা যায় ২০০৫-০৬ কর বছর থেকে শুরু করে ২০২২-২৩ কর বছর পর্যন্ত প্রায় ১৮ কোটি ৯৪ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩৫ টাকার তথ্য গোপন করা হয়েছে।
এছাড়াও রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ টেলিকমের ওয়ালেট লাইসেন্স এবং নিয়মের তোয়াক্কা না করে গ্রামীণ ইউনিভার্সিটির অনুমোদন দেয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী আমলে শেখ হাসিনার ভারতীয় প্রীতির কারণে গ্রামীণফোন থেকে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে ভারতীয় কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয়া হয়। ড. ইউনূস দায়িত্ব নেয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন পরিবর্তন আসবে ফিরিয়ে নেয়া হবে চাকরি বঞ্চিত কর্মকর্তাদের কিন্তু এখানেও হতাশ হয়েছেন সাবেক কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্টদের দাবি বাস্তবতায় সেই আশার প্রতিফলন ঘটেনি বরং আগের সেই প্রভাবই বহাল রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
ক্ষমতায় বসার পর সাধারণ মানুষদের নিজের মায়াজালের আবরণে আবৃত করার লক্ষ্যেই ড. ইউনূস ভারতবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন বলেও সমালোচনা রয়েছে। এ নিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন তার প্রতিবেদনে দাবি করেন প্রকাশ্যে ভারতবিরোধী বক্তব্য দিলেও বাস্তবে ভেতরে ভেতরে ভারতের সঙ্গেই আঁতাত ছিল ডক্টর ইউনূসের।
অন্যদিকে ড. ইউনূসের আরেকটি আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে চীনের সঙ্গে তিস্তা পরিকল্পনা। ২০২৫ সালে তার চীন সফরকালে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার চুক্তি বাস্তবায়ন হয়েছে বলে জানা যায়। তবে ওই অনুসন্ধানে উঠে আসে ভিন্ন তথ্য। ওই প্রকল্প নিয়ে নাকি আগে কোনো আলোচনাই হয়নি চীনের সঙ্গে।
এছাড়া ক্ষমতায় বসার পর জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন না করে বরং ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করেছেন ডক্টর ইউনূস এমন যুক্তিতে সাবেক এই প্রধান উপদেষ্টার নামে থাকা অসংখ্য মামলা ভ্যানিশের তথ্য তুলে ধরেন ইলিয়াস হোসাইন।
আরও পড়ুন:








