রবিবার

৯ আগস্ট, ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩

সাড়ে ৬ বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫৭১২ মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ আগস্ট, ২০২৬ ২২:৩৭

শেয়ার

সাড়ে ৬ বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫৭১২ মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত

দেশে গত সাড়ে ৬ বছরে ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২০ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১২ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ১৪৩ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের বড় একটি অংশ কিশোর ও তরুণ এবং আহতদের ৫৮ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। শনিবার (৮ আগস্ট) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

দুর্ঘটনার প্রধান কারণ ভারী যানবাহনের ধাক্কা

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ৩৯ দশমিক ৩০ শতাংশ ঘটেছে ভারী যানবাহনের ধাক্কায়। ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে। আর ২২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে।

দুর্ঘটনার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হয়েছে পণ্যবাহী যানবাহনকে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পণ্যবাহী যানবাহনের কারণে প্রায় ৪০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে। মোটরসাইকেল চালকের একক দায় রয়েছে ৩৬ শতাংশের বেশি দুর্ঘটনায়। বাসচালকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ।

কিশোর-যুবকদের ঝুঁকি বেশি

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ৫৮ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছর। সংস্থাটি বলছে, চার চাকার অন্যান্য যানবাহনের তুলনায় মোটরসাইকেল ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দেশে গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত ও সহজলভ্য না হওয়া এবং যানজটের কারণে মানুষ মোটরসাইকেল ব্যবহারে উৎসাহিত হচ্ছেন। ফলে দুর্ঘটনাও বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রধানত বেপরোয়া চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা এবং আইন প্রয়োগে দুর্বলতার কারণে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বাড়ছে।

মহাসড়কে প্রায় ৩০ শতাংশ দুর্ঘটনা

গত সাড়ে ৬ বছরে ঘটে যাওয়া মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে জাতীয় মহাসড়কে ঘটেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। আঞ্চলিক সড়কে ৪২ শতাংশ, গ্রামীণ সড়কে ১২ শতাংশ এবং শহরে সাড়ে ১৬ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, বাংলাদেশে নিবন্ধিত মোট মোটরযানের ৭১ শতাংশ মোটরসাইকেল। যার একটি বড় অংশ কিশোর-যুবকেরা চালায়। কিশোর-যুবকদের মধ্যে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা বাড়ছে।

এ ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপনের ভাষা-ভঙ্গি কিশোর-যুবকদের অতিরিক্ত গতিতে মোটরসাইকেলের প্রতি আকর্ষণ বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি গতি তুলতে উৎসাহিত করছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

দুর্ঘটনা কমাতে যেসব সুপারিশ

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা, রাজনীতিতে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর সংস্কৃতি, ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগ, সচেতনতামূলক কর্মসূচি না থাকা, ত্রুটিপূর্ণ ও দুর্বল সড়ক অবকাঠামো, প্রযুক্তির ব্যবহার ও নজরদারির অভাব, সহজ-সাশ্রয়ী গণপরিবহনের ঘাটতি এবং অসহনীয় যানজটকে চিহ্নিত করেছে।

দুর্ঘটনা কমাতে সংস্থাটি মোটরসাইকেলে নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার, মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা এবং বিটিআরসির মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তামূলক প্রচারণা চালানোর সুপারিশ করেছে।

এ ছাড়া মোটরসাইকেলের বিজ্ঞাপনের ভাষা-ভঙ্গিতে পরিবর্তন আনা, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং সহজ-সাশ্রয়ী যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন চালুর সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।



banner close
banner close