শনিবার

৮ আগস্ট, ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩

হাসিনাকে দেশছাড়া করা সেই ৪ পাইলট কোথায়?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:৫৫

শেয়ার

হাসিনাকে দেশছাড়া করা সেই ৪ পাইলট কোথায়?
ছবি সংগৃহীত

সোমবার ৫ আগস্ট ২০২৪। চারদিকে তখন ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল গর্জন। জীবন বাঁচাতে ক্ষমতা ছেড়ে পালায় তৎকালীন স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা। কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটি হয়ে তাঁদের শেষ গন্তব্য ছিল ভারতের দিল্লির হিন্দন বিমানঘাঁটি।

দুই বছর পেরিয়ে গেছে। দেশের দৃশ্যপট বদলেছে বহুবার। তবু আজও এক রহস্যের আবহে ঘুরপাক খাচ্ছে একটি বড় প্রশ্ন, সেদিন শেখ হাসিনাকে বহন করা সেই সামরিক উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টারের চার পাইলট এখন কোথায়? কেমন আছে তাদের বর্তমান কর্মজীবন?

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আজ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে সামরিক সূত্রের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে সামনে এসেছে সেই চারজনের বর্তমান চিত্র।

ফিরে দেখা যাক সোমবার ৫ আগস্টের সেই দুপুরের ক্ষণে। ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকেল ঠিক তিনটা। গণভবন থেকে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে দ্রুত সরিয়ে নেয়ার দায়িত্বে ছিল বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি এমআই-সেভেন্টিন হেলিকপ্টার। এই স্বল্প দূরত্বের চরম স্পর্শকাতর যাত্রায় পাইলট হিসেবে ছিলেন এয়ার কমোডর আব্বাস, আর কো-পাইলটের দায়িত্বে ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির। কড়া নিরাপত্তায় বিকেল তিনটার দিকে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে হেলিকপ্টারটি। শেষ হয় প্রথম অধ্যায়।

কিন্তু, আসল অভিযান তখনো বাকি। কুর্মিটোলার রানওয়েতে আগে থেকেই ইঞ্জিন চালু রেখে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল বিমানবাহিনীর একটি ভারী সামরিক পরিবহন বিমান সি-ওয়ান থার্টি জে। এই বিমানে করেই শুরু হয় দিল্লির হিন্দন বিমানঘাঁটির উদ্দেশ্যে যাত্রা।

এই আন্তর্জাতিক ও অনিশ্চিত ফ্লাইটের মূল পাইলট ছিলেন এয়ার কমোডর শামীম রেজা এবং কো-পাইলট ছিলেন উইং কমান্ডার মাহফুজ। সেদিন আকাশপথের গল্পটা স্বাভাবিক ছিল না। সামরিক সূত্রের দাবি, নিরাপত্তাজনিত কৌশলের অংশ হিসেবে উড্ডয়নের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল বিমানের ট্রান্সপন্ডার। শুধু তাই নয়, প্রচলিত রুট এড়িয়ে সম্পূর্ণ বিকল্প আকাশপথ ধরে ভারতীয় আকাশসীমায় প্রবেশের পরই কেবল কলকাতা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে পাইলটরা। সব প্রক্রিয়া শেষে সন্ধ্যা ছয়টা পনেরো মিনিটে দিল্লির উপকণ্ঠে হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে বিমানটি।

সেই রুদ্ধশ্বাস অভিযানের দুই বছর পর চার কর্মকর্তার কর্মজীবনেও এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। সামরিক সূত্র বলছে, হেলিকপ্টারের মূল পাইলট এয়ার কমোডর আব্বাস পরবর্তীতে প্রশিক্ষণের জন্য পাকিস্তানে যান। কোর্স সম্পন্ন করে দেশে ফিরে বর্তমানে তিনি বিমানবাহিনী সদর দপ্তরের এয়ার হেডকোয়ার্টার ইউনিটের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, কো-পাইলট গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির বর্তমানে বাশার এয়ার বেইজের ওসি অ্যাডমিন হিসেবে কর্মরত।

পরিবর্তন এসেছে দিল্লির বিমানে থাকা দুই পাইলটের দায়িত্বে। মূল পাইলট এয়ার কমোডর শামীম রেজাকে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক কোর্সে অংশ নিতে পাঠানো হয়েছে ফিলিপাইনে। আর কো-পাইলট উইং কমান্ডার মাহফুজ বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন বিমানবাহিনীর অত্যন্ত সংবেদনশীল জায়গা গোয়েন্দা পরিদপ্তরে।

সরকারি নথিতে হয়তো এই যাত্রার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ আজও অধরা। কিন্তু সোমবার ৫ আগস্টের সেই রুদ্ধশ্বাস গোধূলি আর আকাশপথের এই চার পাইলট বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে রয়ে গেছেন।



banner close
banner close