ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশে নাশকতার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে গোয়েন্দারা। তাদের দাবি, শেখ হাসিনার নির্দেশে এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র-এর তত্ত্বাবধানে ঢাকাসহ দেশব্যাপী বহুমুখী নাশকতার পরিকল্পনা করা হয়েছে। গত ২৪ জুলাই শুক্রবার ও ৩১ জুলাই শুক্রবার দিল্লিতে শেখ হাসিনার বাসায় দুই দফা বৈঠকে নাশকতার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয় বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোয়েন্দাদের দাবি, এই পরিকল্পনায় ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের পেশাদার অপরাধী ও ভাড়াটে কিলারদের যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতনিয়ন্ত্রিত ছদ্মবেশী জঙ্গি নেটওয়ার্ক, বিশেষ করে জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশকে (জেএমবি) কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের দিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ, যানবাহনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের বিরোধ উসকে দিয়ে সংঘাত বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে।
গোয়েন্দা ও পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য অস্থিরতার পরিকল্পনাকে চারটি স্তরে দেখা হচ্ছে। প্রথম স্তরে রয়েছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীদের ছোট ছোট দলের চোরাগোপ্তা ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ। দ্বিতীয় স্তরে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের কিলারদের ব্যবহার করে টার্গেট কিলিং, তৃতীয় স্তরে উগ্রবাদী তরুণদের ব্যবহার করে বোমা হামলা বা বিস্ফোরণ এবং চতুর্থ স্তরে বিভিন্ন পেশাজীবী ও শিক্ষক সংগঠনের স্বাভাবিক দাবি-দাওয়ার আন্দোলনকে বৃহত্তর সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে পরিণত করার চেষ্টা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
দিল্লির বাসভবনে দুই দফা বৈঠক
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ জুলাই শুক্রবার ও ৩১ জুলাই শুক্রবার দিল্লির বাসভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে দুই দফা বৈঠকে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা ও ঢাকার কয়েকজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিলিয়ে ২২ জন উপস্থিত ছিলেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ছাড়াও এসব বৈঠকে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের সাবেক ফার্স্ট সেক্রেটারি রঞ্জন সেন, ঢাকা মহানগরের আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতা এবং সাবেক কয়েকজন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথম দফার বৈঠকে ১২ জন এবং দ্বিতীয় দফায় ১০ জন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। প্রথম বৈঠকে আসাদুজ্জামান খান কামাল ছাড়াও ঢাকা দক্ষিণ সিটির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোস্তফা জামান পপি, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মোকাদ্দেস হোসেন জাহিদ, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মারুফ আহমেদ মনসুর, ২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আনিসুর রহমান, ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের সালাউদ্দিন আহমেদ, ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের আহমেদ ইমতিয়াজ মান্নাফি, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া এবং কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের সাবেক ফার্স্ট সেক্রেটারি রঞ্জন সেন উপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
দ্বিতীয় বৈঠকে ঢাকা উত্তর সিটির অন্যতম কিলার হিসেবে পরিচিত এবং জুলাইবিপ্লবী শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর আলোচিত সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, মোহাম্মদ আনিসুর রহমান নাঈম, মো. শরিফুর রহমান, মো. জাহিদুল ইসলাম মোল্লা, সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম, শেখ সেলিম, মো. ইসহাক মিয়া, ডিএম শামীম, জাকির হোসেন বাবুল ও মো. জনি অংশ নেন বলে জানা গেছে।
জুলাইবিপ্লবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশকে রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ডের অস্ত্রধারীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
গোয়েন্দাদের দাবি, রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও চাঁদাবাজির বিরোধের আবহে বিচ্ছিন্ন হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে আতঙ্ক বাড়ানো এবং পরে এর দায় প্রতিপক্ষের ওপর চাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জুলাইবিপ্লবের নেতাদের টার্গেট কিলিংয়ের মাধ্যমে হত্যা করে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আতঙ্কিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কিছু গণমাধ্যমের মাধ্যমে সরকার দেশ চালাতে ব্যর্থ এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নেই—এমন বয়ান ধীরে ধীরে তৈরি করার পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
জেএমবিকে ঘিরে উগ্রবাদের পরিকল্পনা
২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট বুধবার দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলার মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসা উগ্রবাদী সংগঠন জেএমবিকে নতুন করে সক্রিয় করার চক্রান্ত চলছে বলে গোয়েন্দা তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র-এর তত্ত্বাবধানে পুরোনো জঙ্গি নেটওয়ার্ক জেএমবিকে কাজে লাগানোর ছক রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই পরিকল্পনার মূল দায়িত্বে জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আব্দুর রহমানের ছেলে এবং সাবেক এমপি মির্জা আজমের ভাগ্নে নাবিল আহমেদকে রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে নকল চাবি বানিয়ে কুমিল্লা কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া এই তরুণ জঙ্গি নেতা পরে গ্রেপ্তার হলেও ২০১৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি শনিবার জামিনে বের হয়ে ভারতে পাড়ি জমান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত তিন মাস ধরে দিল্লি ও কলকাতায় অবস্থান করে তিনি অনলাইনে তরুণদের মোটিভেশনের মাধ্যমে সংগঠিত করছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
ভারতে থাকা সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ও এসবি প্রধান মনিরুল ইসলামকে এই জেএমবি পরিকল্পনার প্রধান রূপকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উগ্রবাদের বয়ান তৈরি, ভারতীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে তার সখ্য ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে তাকে মূল সমন্বয়কের ভূমিকা দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিলে ছাতা বোমা এবং আশুলিয়ায় প্রেসার কুকার বোমায় উগ্রবাদীদের ব্যবহারের নেপথ্যে চক্রের যোগসূত্র দেখছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে কালেমা খচিত পতাকা নিয়ে র্যালি এবং ভারতে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতের বিতর্কিত বক্তব্যের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিকেও এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
ক্যাম্পাসে সংঘাত বাড়ানোর পরিকল্পনা
রাজনৈতিক মহল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সম্প্রীতি বিনষ্টের সবচেয়ে বিপজ্জনক ছক দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ঘিরে করা হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যকার সংঘর্ষের সূত্রপাতকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সুযোগ হিসেবে নিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, ছাত্রলীগের বাছাই করা একটি ক্যাডার বাহিনীকে ক্যাম্পাসের ভেতরে পাঠিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ছদ্মবেশে ইন্ধন জুগিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে লাশ ফেলার মাধ্যমে জুলাইয়ের পক্ষের শক্তির মধ্যে বিভেদ তৈরির নির্দেশনা রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থের প্রধান উৎস হিসেবে ভারতে পলাতক গাজীপুর সিটির সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের নাম এসেছে।
রাজধানীর গুলশানে বসবাসরত যুবলীগের সাবেক এক প্রভাবশালী কোটিপতি নেতাকে অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের রুট হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশের বড় বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘাতের সুযোগে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসব সংঘর্ষে ঢোকার পরিকল্পনা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আগস্ট ক্যালেন্ডার ঘিরে নাশকতার ছক
মাঠপর্যায়ে অস্থিতিশীলতা ছড়াতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের গোপন সেলগুলো সুনির্দিষ্ট আগস্ট ক্যালেন্ডার মেনে মাঠে নেমেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ১০ আগস্ট সোমবার পর্যন্ত সারা দেশে নিষিদ্ধ সংগঠনের ঝটিকা মিছিল থেকে ককটেল হামলা, যানবাহনে আগুন ও ভাঙচুরের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও ভুয়া তথ্য প্রচারের নির্দেশনা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে ১১ থেকে ১৩ আগস্ট, মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার, জনসমাগমস্থলে কুশলবিনিময়ের অজুহাতে ক্যাডার জড়ো করে ১৫ আগস্ট শনিবার ধানমন্ডি ৩২ ও টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থান নিয়ে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
পেশাজীবী আন্দোলন ঘিরে চক্রান্ত
গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র বলছে, শুধু ক্যাডার বা জঙ্গি নেটওয়ার্ক নয়, পেশাজীবীদের স্বাভাবিক আন্দোলনকেও সরকার ফেলার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চক্রান্ত উন্মোচিত হয়েছে। প্রায় চার লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া ও বদলি-সংক্রান্ত প্রশাসনিক অসন্তোষকে পুঁজি করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করা হয়েছে।
গত ছয় মাস ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় আওয়ামীপন্থী একটি শিক্ষক চক্র সাধারণ শিক্ষকদের ক্ষুব্ধ করে রাজপথে নামানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশব্যাপী আটটি বিভাগে পাঁচজন করে সমন্বয়ক নিয়োগ দিয়ে পুরো শিক্ষক সমাজকে ঢাকায় এনে রাজপথ অচল করার পরিকল্পনার নেপথ্যে শাহানা নামের এক বিতর্কিত শিক্ষক নেত্রী কাজ করছেন বলে দাবি করা হয়েছে। শিক্ষক আন্দোলনকে চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের মতো সরকার পতনের প্ল্যাটফর্মে রূপ দেওয়াই তার লক্ষ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
৪০৪ শিক্ষকের গোপন টেলিগ্রাম গ্রুপ
শিক্ষাঙ্গনকে অস্থিতিশীল করার প্রক্রিয়ায় দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি গোপন গ্রুপের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে সূত্র। হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৪০৪ শিক্ষক গোপনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ নামে একটি এনক্রিপ্টেড গোপন টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশৃঙ্খলা তৈরির দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে। সাবেক উপাচার্য ও বিভাগের শীর্ষ পদে থাকা এসব শিক্ষক সিস্টেম আপডেট ও মাহেন্দ্রক্ষণ সন্নিকটের মতো সংকেত ব্যবহার করে নিয়মিত ভার্চুয়াল গোপন সভা করছেন এবং এর স্ক্রিনশট ও তথ্য পুলিশ সদর দপ্তরের হাতে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মতিঝিল ও আশুলিয়ায় বোমা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গোয়েন্দা নজরদারি
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের কিলার, পুনর্গঠিত জঙ্গি সংগঠন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ক্যাডার এবং ছদ্মবেশী শিক্ষকদের চতুর্মুখী নাশকতার ছক বানচাল করতে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো সর্বোচ্চ সজাগ রয়েছে। পুলিশ, র্যাব ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী সারা দেশে নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে।
উগ্রবাদী ও দুষ্কৃতকারীদের সম্ভাব্য হামলা এড়াতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সারা দেশে ব্যবহৃত সরকারি যানবাহনের সুরক্ষায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১ আগস্ট শনিবার পাঠানো এই নির্দেশনায় জিপ, পিকআপ, বাসসহ পুলিশের যেকোনো যানবাহনের নিরাপত্তায় কোনো শিথিলতা বা অবহেলা না করার কথা বলা হয়েছে। ডিউটির সময় বা ডিউটি শেষে গাড়ি কোনোভাবেই অরক্ষিত রাখা যাবে না এবং সাময়িকভাবে থামলেও নিরাপদ স্থানে পার্ক করে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া থানা, পুলিশ লাইনস ও অফিস কম্পাউন্ডে পার্ক করা যানবাহনের নিরাপত্তায় টহল বাড়ানো এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তুর ওপর বিশেষ নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে দেশের সব মহানগর, রেঞ্জ ও জেলা পুলিশ কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
পুলিশের মুখপাত্র ও সহকারী মহাপুলিশ পরিদর্শক (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবসময় সতর্ক। তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে অনেক সময় কিছু ক্ষেত্রে ও কিছু সময়ের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে।
আরও পড়ুন:








