আয়নাঘর, শুধুই একটি শব্দটি নয়। এটি যেন ফ্যাসিস্ট শাসক শেখ হাসিনার গত ১৭ বছরের শাসনামলে গুম, খুন, হত্যা ও ফ্যাসিবাদের এক অন্ধকার অধ্যায়ের প্রতীক। যার অন্তরালে লুকিয়ে আছে ফ্যাসিস্ট সম্রাজ্ঞী শেখ হাসিনার এক পৈশাচিক চেহারা।
আর সমালোচনা রয়েছে, এই আয়নাঘরের অস্তিত্ব লাভের পেছনে যদি মূল কারিগর হয়ে থাকেন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা, তাহলে এর নেপথ্যের বয়ান নির্মাণের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ছিল দুই গণমাধ্যম, প্রথম আলো এবং দ্য ডেইলি স্টার। এই অভিযোগকে ঘিরেই শীর্ষ এই দুই গণমাধ্যমকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
প্রথম আলোকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক
প্রথম আলোকে ঘিরে সেই বিতর্ক যেন আবারও নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের র্যাবের আয়নাঘর পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে প্রথম আলোর একটি সংবাদ শিরোনাম নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। জানা যায়, শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরায় র্যাব-১ সদর দপ্তরে অবস্থিত আয়নাঘর পরিদর্শনে যান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারপতিরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কথিত গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিরা শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে প্রথম আলো।
নেটিজেনদের তোপের মুখে প্রথম আলো
এরপরই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথিত গোপন বন্দিশালা শব্দগুচ্ছকে কেন্দ্র করে শুরু হয় সমালোচনা ও বিতর্কের ঝড়। অনেকেই প্রশ্ন তোলে, প্রথম আলোর বস্তুনিষ্ঠতার বিরুদ্ধে। কারণ তাদের ভাষ্য, কথিত বলে একভাবে নির্যাতিত এবং গুমের শিকার মানুষদের সাথে উপহাস করেছে পত্রিকাটি। এতে অনেক বিশ্লেষক উল্টো প্রথম আলোকেই কথিত বলে আখ্যায়িত করে।
যদিও পরবর্তীতে নেটিজেন ও দেশের রাজনৈতিক সচেতন মহলের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে কথিত গোপন বন্দিশালা শব্দগুচ্ছটি সংশোধন করে প্রথম আলো। একই সঙ্গে নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি ফটো কার্ড প্রকাশের মাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করে জানায়, শব্দবন্ধটি সংবাদে ভুলবশত যুক্ত হয়েছিল।
ক্ষমাপ্রার্থনায়ও সমালোচনা অব্যাহত
তবে সংশ্লিষ্টদের অভিমত, প্রথম আলোর এই জবাবদিহিমূলক ফটো কার্ড কিংবা ক্ষমাপ্রার্থনা, কোনোটিই জনমনে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। বরং সেই ক্ষমাপ্রার্থনাকে ঘিরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নতুন হাস্যরস ও সমালোচনার ঝড়।
এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে প্রথম আলোর বিরুদ্ধে নিরপরাধ আলেম-উলামাদের জঙ্গি হিসেবে আখ্যায়িত করে মিথ্যা বয়ান তৈরির অভিযোগও উঠেছে। ইসলামিক স্কলার হারুন ইজহারসহ দেশের বিভিন্ন আলেম-উলামার বক্তব্যেও এই অভিযোগের বিষয়টি উঠে এসেছে। অনেকেই বলছে, এভাবেই গত ১৭ বছর আয়নাঘরের বয়ান নির্মাণের মাস্টারমাইন্ড হয়ে কাজ করে আসছিল প্রথম আলো।
বিশ্লেষকদের অভিমত
বিশ্লেষকদের একটা অংশের মতে, গত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকার শেখ হাসিনার পৈশাচিক রূপ ধারণ করার পেছনে অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ছিল প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার। অভিযোগ রয়েছে, দেশের পটপরিবর্তনের পর গিরগিটির মতো নিজেদের খোলস বদলালেও, বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত কিছু ঘটনা এখনো সেই পুরোনো অবস্থানের ছাপ বহন করে। সমালোচকদের দাবি, এসব ঘটনাই প্রমাণ করে, প্রথম আলোর ভেতর থেকে ফ্যাসিবাদের শিকড় পুরোপুরি উপড়ে ফেলা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন:








