দুই বছর পর সরাসরি স্ক্রিনে আসছেন স্বৈরাচার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খবর শুনে ভক্ত থেকে সমালোচক সবার মাঝেই ছিল চরম উত্তেজনা। কিন্তু লাইভে এসে যা ঘটল তাকে এক কথায় বলা যায় পপকর্নের বদলে হতাশা আর ভিডিওর বদলে শুধুই অডিও সারপ্রাইজ।
দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবের সেই সংবাদ সম্মেলনে ছিল ডিসেম্বরে দেশে ফেরার গরম ঘোষণা কিন্তু ছিল না কোনো রোডম্যাপ।
বুধবার ৫ আগস্ট ২০২৬। ঠিক দুই বছর আগে এই দিনেই ঢাকা থেকে পালিয়ে দিল্লিতে ল্যান্ড করেছিলেন শেখ হাসিনা। দুই বছর পর শোনা গেল তিনি আসছেন লাইভ ভিডিওতে। ব্যস স্ক্রিনের সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়ল দর্শক। ভিউয়ারের কাঁটা লাফিয়ে উঠল ২ লাখ ৬ হাজারে। সবাই ভাবছেন কেমন আছেন দেখতে কেমন হয়েছেন ফ্যাসিস্ট হাসিনা। কিন্তু সারপ্রাইজ ভিডিওর বদলে ভেসে এল শুধুই অডিও সংযোগ।
আর তাতেই ঘটল সেই ঐতিহাসিক দর্শক পলায়ন। মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় লাইভ ছেড়ে চলে গেলেন প্রায় ৪৪ হাজার দর্শক। ভিউয়ার নেমে এল ১ লাখ ৬২ হাজারে। প্রশ্ন হলো মানুষ কি চেহারা দেখতে না পেয়েই হতাশ হলেন নাকি এই অডিও ভাষণের স্ক্রিপ্ট দর্শকদের মন ভরাতে পারল না।
ভিডিও না দেখালেও কথার আওয়াজ কিন্তু কম ছিল না। শেখ হাসিনা আবারো ঘোষণা দিলেন ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরছেন। মনে করিয়ে দিলেন ১৯৮১ সালের সেই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের কথা।
কিন্তু সাংবাদিকরা যখন পাল্টা প্রশ্ন ছুড়লেন ফেরাটা কোন তারিখে কোন পথে বাংলাদেশের আদালতের সেই মৃত্যুদণ্ড আর মানবতাবিরোধী অপরাধের আইনি লড়াই কীভাবে সামলাবেন তখন উত্তরের ঘরে শুধুই শূন্যতা। না আছে কোনো তারিখ না আছে রুটম্যাপ আর না আছে সরকারের সাথে কোনো যোগাযোগের প্রমাণ। অর্থাৎ ঘোষণা ষোলো আনা কিন্তু বাস্তবায়নের নকশা শূন্য।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন উঠেছিল জুলাই আগস্টের সেই রক্তাক্ত অধ্যায় নিয়েও। জাতিসংঘের হিসেবে যেখানে প্রায় ১৪০০ মানুষের প্রাণহানির কথা বলা হয়েছে সেই হত্যাকাণ্ডের জন্য কোনো অনুশোচনা বা ক্ষমা চাবেন কি না এমন প্রশ্ন করা হয় হাসিনাকে।
কিন্তু তিনি বল ঠেলে দিলেন ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের কোর্টে। আর আমেরিকার ভার্চুয়াল লাইন থেকে জয় যা শোনালেন তা আরও নাটকীয়। অনুশোচনার বদলে তিনি টেনে আনলেন অন্তর্বর্তী সরকারের ইনডেমনিটি বা রক্ষাকবচের প্রসঙ্গ। তাদের যুক্তি এক পক্ষের হত্যাকাণ্ড রক্ষাকবচ পেলে অন্য পক্ষেরটাও তো বৈধতা পাওয়ার কথা।
অথচ একই নিশ্বাসে তারা আবার শোনালেন এখন নাকি প্রতিশোধের সময় নয় সময় রিকনসিলিয়েশন বা সংহতির।
এই পুরো নাটকে দিল্লির অবস্থান কী তাদের সরকার পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে এটি নিতান্তই বেসরকারি আয়োজন। এর সাথে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই এবং শেখ হাসিনার বক্তব্যের রাজনৈতিক দায় দিল্লি নেবে না।
আর এই দেড় ঘণ্টার আয়োজনে অতিথিদের তালিকাও ছিল আলোচিত। দিল্লির প্রাক্তন হাইকমিশনার বীণা সিক্রির পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার কলম্বো থেকে রেকর্ডেড অডিও বার্তায় হাজির ছিলেন ক্রিকেটার ও স্বৈরাচারী দলের সাবেক এমপি সাকিব আল হাসান ও ওই সরকারের সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
সব মিলিয়ে বুধবার ৫ আগস্টের এই অডিও সম্মেলন একটি বিষয়ই পরিষ্কার করেছে শেখ হাসিনা প্রতিনিয়ত হাসির খোঁড়াক যোগাচ্ছেন বানানো তথ্য দিয়ে। সেইসাথে প্রত্যাবর্তনের বিশ্বাসযোগ্য রাস্তাও দেখাতে পারেননি।
আওয়ামী লীগপন্থী প্রচার মাধ্যম প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল হাসিনা ভিডিওতে আসবেন। দর্শক পেল অডিও। নেতা প্রতিশ্রুতি দিলেন দেশে ফেরার কিন্তু পাওয়া গেল না কোনো আইনি বা বাস্তব প্রস্তুতি। এখন দেখার বিষয় ডিসেম্বরের আগে এই রাজনৈতিক হুঙ্কার সত্যিই কোনো বাস্তব রূপ পায় নাকি ফেসবুক লাইভের মতোই তা কেবল অডিও বার্তাতেই সীমাবদ্ধ থাকে।
আরও পড়ুন:








