বৃহস্পতিবার

৬ আগস্ট, ২০২৬ ২২ শ্রাবণ, ১৪৩৩

'জঙ্গি নাটকে' জীবন তছনছ মাসরুরের অভিযোগ প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬ আগস্ট, ২০২৬ ২০:০৪

শেয়ার

'জঙ্গি নাটকে' জীবন তছনছ মাসরুরের অভিযোগ প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের বিরুদ্ধে
ছবি বাংলা এডিশন

একটি কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ কীভাবে একজন দক্ষ করপোরেট পেশাজীবীর জীবনকে মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে পারে তারই এক লোমহর্ষক উপাখ্যান। ২০২০ সালে মোদিবিরোধী আন্দোলনের সময় গুম ও নির্মম নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর সাজানো জঙ্গি নাটকের মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে এই ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ধূলিসাৎ করেছিল প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার। ভুক্তভোগী নিজেই তুলেছেন এমন অভিযোগ।

২০১০-১১ সাল থেকেই ব্লগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বৈরাচারবিরোধী লেখালেখিতে সক্রিয় ছিলেন চট্টগ্রামের হাটহাজারীর খোরশেদুল আনোয়ার চৌধুরীর ছেলে মাসরুর আনোয়ার চৌধুরী। বিডিআর বিদ্রোহ শাহবাগ কিংবা হেফাজত ট্র্যাজেডি প্রতিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার কলম ছিল আপসহীন।

পেশাগত জীবনে ২০১৯ সালের শেষভাগে তিনি যোগ দেন হলিডে ইন ঢাকা সিটি সেন্টারে ক্রয় ব্যবস্থাপক হিসেবে। কিন্তু তার এই সাজানো ক্যারিয়ারেই নেমে আসে ফ্যাসিবাদের নির্মম আঘাত।

রবিবার ১ মার্চ ২০২০। দেশে চলছে মোদিবিরোধী আন্দোলন। সকালে অফিসে যাওয়ার পথে গুলশান পুলিশ প্লাজা ও হাতিরঝিল ব্রিজের সামনে রিকশা থেকে নামিয়ে সাদা পোশাকে ৭-৮ জন ব্যক্তি তাকে তুলে নেয় মাইক্রোবাসে। ফেসবুক প্রোফাইল দেখিয়ে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে চোখ বেঁধে ফেলা হয় এই লেখককে।

এরপর শুরু হয় অমানুষিক নির্যাতন। চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে রাখা হয় টয়লেট সেলে। যেখানে বেঁচে থাকতে হয়েছে টয়লেট সেলের কলের পানি খেয়ে। পরদিন সকালে ৩০০ ফিট এলাকায় নিয়ে যাওয়ার নাটক করে পরে র‌্যাবের টিএফআই সেলে চালানো হয় অকথ্য নির্যাতন।

টর্চার সেলে ৭ থেকে ১০ দিন চোখ বাঁধা অবস্থায় রাখার পর তিনি দেখতে পান সেখানে ১ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত গুম থাকা আরও বহু হতভাগ্য বন্দি রয়েছেন নারায়ণগঞ্জের র‌্যাব-১১ এর গোপন সেলে।

পুরোনো দুই বন্ধু ও এক মাদ্রাসা ছাত্রকে একসঙ্গে এনে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় কাল্পনিক নাশকতা পরিকল্পনার মামলা সাজিয়ে শুরু হয় নাটকের অধ্যায় মিডিয়া ট্রায়াল।

অভিযোগ অনুযায়ী এই সাজানো নাটকের প্রধান অনুঘটক হয়ে ওঠে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার। র‌্যাবের দেয়া তথ্য যাচাই না করেই দ্য ডেইলি স্টার শিরোনাম করে নারায়ণগঞ্জে চার জেএমবি সদস্য আটক এবং প্রথম আলো শিরোনাম দেয় ৩ প্রকৌশলীসহ জেএমবির ৪ সদস্য গ্রেপ্তার। এভাবেই প্রকাশ করা হয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন সংবাদ।

তিনি অভিযোগ করেন গুম থাকাবস্থায় প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছাপা হয় মিথ্যা সংবাদ। যা তার পরিবারের সামাজিক মর্যাদাকে চিরতরে ধূলিসাৎ করে দেয়।

গুম এবং প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের মিথ্যা সংবাদের এই বিরূপ প্রভাব সরাসরি পড়ে তার কর্মজীবনে। চরম হতাশায় নিমজ্জিত হন বলে আক্ষেপ করেন এই ভুক্তভোগী।

বিষয়টিকে মিথ্যা ও ফরমায়েশি সাংবাদিকতা উল্লেখ করে জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন মাসরুর আনোয়ার চৌধুরী।

সম্প্রতি আলোচনায় আসে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ভারতের সম্পৃক্ততা ও অন্তরাল রহস্য জেনে ফেলাই কাল হয়েছিল সেনাবাহিনীর চৌকস কর্মকর্তা মেজর অব জাহিদুল ইসলামের। অভিযোগ রয়েছে সেই সত্য ধামাচাপা দিতেই ২০১৬ সালে রূপনগরে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার।

জানা যায় সে সময় স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পালিত ও দিল্লি থেকে পরিচালিত প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারসহ একাধিক গণমাধ্যম পুলিশের দেয়া স্ক্রিপ্ট বিন্দুমাত্র যাচাই করেনি। একতরফা মিডিয়া ট্রায়ালে একজন দেশপ্রেমিক সেনাকর্মকর্তার গায়ে সেঁটে দেয়া হয়েছিল উগ্রবাদের তকমা।

অভিযোগ রয়েছে এভাবেই হাসিনা সরকারের একের পর এক গুম খুন হত্যা ও জঙ্গি নাটকের বৈধতা দিতো প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার। স্বৈরাচারের দোসর হয়ে মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে নির্দোষ মানুষকে জঙ্গি বানানোর এই কারিগরদের বিচার কবে হবে সেই প্রশ্নই এখন পুরো জাতির।



banner close
banner close