বৃহস্পতিবার

৬ আগস্ট, ২০২৬ ২২ শ্রাবণ, ১৪৩৩

আওয়ামী লীগের পতন কেনো বারবার আগস্টেই হয়?

নিউজ ডেস্ক: বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:২৫

আপডেট: ৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:২৮

শেয়ার

আওয়ামী লীগের পতন কেনো বারবার আগস্টেই হয়?
ছবি বাংলা এডিশন

আওয়ামী লীগের ইতিহাসে আগস্ট যেন কেবল একটি মাস নয় বরং তাদের একতরফা শাসন পতনের এক উপলক্ষ। ক্যালেন্ডারের পাতায় আগস্ট এলেই দেশের রাজনীতিতে ফ্যাসিবাদবিরোধীদের জয়ধ্বনি বাজে। আর আওয়ামী লীগের ইতিহাসে এই মাসটি বারবার ফিরে এসেছে তাদের কুক্ষিগত ক্ষমতার নাটকীয় পতন নিয়ে। প্রশ্ন হলো আওয়ামী লীগের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পতন কেন বারবার এই আগস্টেই ঘটে।

আগস্ট অধ্যায়ের সবচেয়ে কালজয়ী ঘটনা ঘটে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে উৎখাতের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের বাকশালী রাজনীতি দমন করা হয় সেসময়। স্বাধীনতার পর যেন প্রথমবারের মতো মুক্তি পায় দেশের মানুষ।

সেদিনই ক্ষমতার শীর্ষ থেকে দীর্ঘ সময়ের জন্য মাটিতে নেমে আসে দলটি। সেইসঙ্গে বদলে যায় দেশের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক গতিপথ। শেখ মুজিবের মন্ত্রিসভার সদস্য খন্দকার মোশতাক আহমেদ দায়িত্বে আসেন এবং বাকশাল ব্যবস্থার পতন ঘটে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অনেকেই কারাবন্দী অথবা নিহত হন।

এরপর ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার এক সমাবেশ চলছে।

যদিও পরবর্তীতে জানা যায় সেসময়ের ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামায়াত জোটকে বেকায়দায় ফেলতেই এটি ছিল সাজানো পরিকল্পনা। কারণ সেই হামলায় ২২ জনের মৃত্যু এবং প্রায় তিনশো নেতাকর্মী আহত হলেও অক্ষত ছিলেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। তবে সবমিলিয়ে সেসময়ে ১৯৭৫-এর পর এটিকেই ধরা হয় আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় আঘাত হিসেবে।

আর এই আগস্ট সমীকরণের সবশেষ ও সবচেয়ে বড় অধ্যায় রচিত হয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমন করার জন্য দলীয় সন্ত্রাসী এবং রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার। একপর্যায়ে তা রূপ নেয় সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে।

ঢাকামুখী গণ-লংমার্চ ও তীব্র গণঅভ্যুত্থানের মুখে হাতে রক্তের দাগ নিয়েই পদত্যাগ করে দেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। অল্প সময়ের প্রস্তুতিতে সামরিক হেলিকপ্টারে করে দেশ ত্যাগ করেন তিনি।

এর মধ্য দিয়ে টানা ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে। ১৯৭৫ সালের প্রায় পাঁচ দশক পর আবারও সেই আগস্ট মাসেই ক্ষমতার শীর্ষ অবস্থান থেকে এক নিমেষেই ভেঙে পড়ে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের শাসনব্যবস্থা। এটিই দলটির সবচেয়ে বড় পতন। গণহত্যা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড লাগামহীন দুর্নীতি আর বিরোধীদলের ওপর স্ট্রিম রোলার চালানোর শেষ পরিণতিতেই যেন একেবারে নিশ্চিহ্ন হয় ফ্যাসিবাদী দলটি। এরপর নানা অপরাধের কারণে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে উৎখাত ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার নাটকে বলিদান আর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক পতন সবই ঘটেছে বছরের এই অষ্টম মাসটিতে। এটি কি কেবলই ইতিহাসের কাকতালীয় সংযোগ নাকি আগস্ট মাসই আওয়ামী লীগের অপরাজনীতির বিচারের মোক্ষম সময় তা এক কঠিন সত্য।



banner close
banner close