পতিত স্বৈরশাসক হাসিনাকে নিয়ে যতো বিদ্রুপ নেট দুনিয়ায় হাসিনাকে নিয়ে হাসাহাসি ট্রল হাসিনাকে ব্যঙ্গ পতিত স্বৈরাচারের নানা বক্তব্যে ব্যঙ্গাত্মক উৎসবে মেতেছে নেটিজেনরা।
শেখ হাসিনা পালায় না জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল প্রেক্ষাপটে কোটা আন্দোলন চলাকালীন সোমবার ২২ জুলাই অত্যন্ত দম্ভভরে দৃঢ় উচ্চারণে এই কথাটি বলেছিলেন স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনা। সেই সময় দেশজুড়ে উত্তেজনা অস্থিরতা আর অনিশ্চয়তার এক অদ্ভুত মিশ্রণ বিরাজ করছিল। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দিনগুলোতে যখন ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন তথ্যের প্রবাহ স্তব্ধ তখন নানা গুঞ্জন তৈরি হয় চারপাশে। অনেকে ধারণা করে জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন শেখ হাসিনা।
কিন্তু এমন এক প্রেক্ষাপটে জনসম্মুখে এসে সংবাদ সম্মেলনে দৃঢ়চিত্তে আত্মবিশ্বাসী ও কিছুটা দাম্ভিক কণ্ঠে তিনি বলেন শেখ হাসিনা পালায় না। বক্তব্যটি তখন শুধু একটি বাক্য ছিল না এটি ছিল ক্ষমতার আত্মবিশ্বাসের প্রতীক এক অদম্য অহংকারের বহিঃপ্রকাশ। তবে ইতিহাস অনেক সময় নিজের আয়নায় কথার প্রতিফলন ঘটায় ভিন্নভাবে। শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের পর মাত্র অল্প কিছুদিনের ব্যবধানে সেই দৃশ্যপট বদলে যায়। পতন ঘটে দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন সেই শাসনের। শেখ হাসিনা পালায় না এই বক্তব্যের মাত্র ১৪ দিনের মাথায় সোমবার ৫ আগস্ট দুপুরে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন তিনি।
তার দেশত্যাগের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে সময়ের স্রোতে হয়তো সেই দম্ভের প্রতিধ্বনি ম্লান হয়ে গেছে কিন্তু ইতিহাসের রক্তস্নাত অধ্যায়ে এখনো নানা কারণে ফিরে আসে সেই উচ্চারণ শেখ হাসিনা পালায় না। আর তার ঠিক পরপরই ঘটে যাওয়া দেশত্যাগের ঘটনাও ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে এক পরিহাসজনক দ্বৈততার মুহূর্ত হিসেবে।
সে সময় এই ঘটনাপ্রবাহ দেশজুড়ে তৈরি করেছিল এক অনন্য ব্যঙ্গাত্মক প্রেক্ষাপট। বিভিন্ন সময় ছাত্র জনতা এই বিষয়টি ঘিরে নানা ব্যঙ্গাত্মক আয়োজন ও তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে। ৫ আগস্টের পর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে জুলাই গ্রাফিতির ঢেউয়ে উঠে আসে এই বক্তব্যের চিত্ররূপ। দেয়ালজুড়ে আঁকা হয় কার্টুন পাশে লেখা শেখ হাসিনা পালায় না। যেখানে শব্দ আর চিত্র মিলেমিশে তৈরি করে এক দৃশ্যমান ব্যঙ্গাত্মক ভাষা। তৎকালীন সময়ে এই গ্রাফিতিগুলোই হয়ে ওঠে সময়ের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নিদর্শন।
অপরদিকে সময় যতই পেরিয়েছে এই বক্তব্য ততই জনমনে এক ধরনের ঠাট্টার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। দেশত্যাগের পরও বিভিন্ন সময়ে এই বাক্যটি ফিরে এসেছে নতুন নতুন আঙ্গিকে। এমনকি এই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয় থ্রিডি এলইডি গেমও। সেখানে দেখা যায় একটি এলইডি স্ক্রিনে শেখ হাসিনা দৌড়াচ্ছে আর তার পেছনে ট্রেডমিলে দৌড়ে চলেছেন ছাত্র জনতা যেন তাকে ধরার প্রতীকী প্রচেষ্টা। গেম চলাকালীন দর্শকদের উল্লাসে ফেটে পড়া এই পুরো দৃশ্য যেন বাস্তবতা ও স্যাটায়ার বা উপহাসের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন।
দীর্ঘ সময় পেরিয়েও একটি বাক্য কীভাবে জনস্মৃতিতে ব্যঙ্গাত্মক জায়গা করে নেয় শেখ হাসিনা পালায় না তারই এক জীবন্ত উদাহরণ। একসময় যা ছিল দৃঢ়তার প্রতীক সময়ের পরিক্রমায় তা ই হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক স্যাটায়ারের সবচেয়ে আলোচিত উপাদানগুলোর একটি।
একইভাবে বর্তমান সময়েও হাসিনার ফেরার ঘোষণা নিয়ে হাসি তামাশা করছে মানুষ। ডিসেম্বরে হাসিনা ফেরার ঘোষণা দিলেও ফিরবেন না। যেমনটা পালিয়ে যেতে না চেয়েও পালিয়ে গেছেন। এমন মন্তব্য করছে অনেকেই।
একইভাবে হাসিনার ভার্চ্যুয়াল মিটিং নিয়েও স্যাটায়ার করছে নেটিজেনরা। সম্প্রতি আলোচনায় এসেছিলো দুই বছর পর আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি ভিডিওতে যোগ দিবেন হাসিনা। তবে বরাবরের মতোই ভিডিওতে না এসে অডিওতে যুক্ত হয়েছিলেন এই পতিত স্বৈরশাসক। বিষয়টি নিয়ে হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে নেটিজেনরা বিদ্রুপের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখছে দেখা না দিলে বন্ধু কথা কইয়ো না।
এভাবেই দিনের পর দিন নিজেকে হাসির পাত্রে পরিণত করছে হাসিনা। পালিয়ে যেয়ে নিজের ব্যক্তিত্ব যেমন খুইয়েছেন তেমনই বর্তমানে হিংসাত্মক আর প্রতিহিংসা পরায়ন বক্তব্য দিয়ে এবং ফাঁকা আওয়াজ ছুড়ে প্রতিনিয়তই নিজেকে বানাচ্ছেন হাসির খোরাক। যা দেখে মানুষ বলছে স্বৈরশাসকদের শেষ পরিণতি বোধহয় এমনই হয়।
আরও পড়ুন:








