বৃহস্পতিবার

৬ আগস্ট, ২০২৬ ২২ শ্রাবণ, ১৪৩৩

১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১১ জনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬ আগস্ট, ২০২৬ ১০:২৬

শেয়ার

১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১১ জনের যাবজ্জীবন
ছবি সংগৃহীত

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ছয়টি মামলার রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আলোচিত এসব রায়ে ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চলমান বিচার কার্যক্রম সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনাল এখন পর্যন্ত দুটি ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ছয়টি রায়ের মাধ্যমে সেই প্রতিশ্রুতি অনেকাংশে বাস্তবায়ন করেছে। তার মতে, দেশের অন্য যে কোনো আদালতের তুলনায় কম সময়ে স্পর্শকাতর ছয়টি মামলার রায় ঘোষণা দৃষ্টান্তমূলক। তিনি জানান, আরও অনেক মামলার বিচার দুটি ট্রাইব্যুনালে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে এবং সব মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশা করেন।

প্রথম রায়ে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল মামলার আসামি থেকে রাজসাক্ষী হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং শহীদদের পরিবার ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় রায়ে ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই রায়ে সাবেক সহকারী কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছর, শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) মো. আরশেদ হোসেনকে চার বছর এবং কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলামকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

তৃতীয় রায়ে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানো ও আরও একজনকে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া সাবেক এসআই আরাফাত উদ্দীন ও কামরুল হাসানকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলায় রাজসাক্ষী হওয়া শেখ আবজালুল হককে ক্ষমা করা হয়।

চতুর্থ রায়ে ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাবেক এএসআই (সশস্ত্র) মো. আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন এবং সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ (বেরোবি) এসআই (নিরস্ত্র) বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধবকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় আরও ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পঞ্চম রায়ে রাজধানীর রামপুরায় নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি এবং একই এলাকায় আরও দুজনকে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই মামলায় সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন এবং সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ষষ্ঠ রায়ে ২০২৬ সালের ৩০ জুন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মামলার দুটি অভিযোগে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৫ সালের ২৬ মে রাজধানীর চানখাঁরপুলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়ার মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট বিচার কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের শাসনামলের গুম-খুনসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের আরও বিভিন্ন মামলার বিচার দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে।

সূত্র: বাসস



banner close
banner close