বুধবার

৫ আগস্ট, ২০২৬ ২১ শ্রাবণ, ১৪৩৩

ফ্যাসিস্টের আঁতুড়ঘরে পরিণত গণভবন যেভাবে দখলে নেয় ছাত্র-জনতা

নিউজ ডেস্ক: বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৪৩

শেয়ার

ফ্যাসিস্টের আঁতুড়ঘরে পরিণত গণভবন যেভাবে দখলে নেয় ছাত্র-জনতা
ছবি বাংলা এডিশন

সকালে গণভবনের প্রাচীরঘেরা নীরবতায় তখন এক অদ্ভুত দ্বৈত আবহ থমথমে শ্বাসরোধী স্তব্ধতা আর তারই ফাঁকে ফাঁকে এক বিভীষিকাময় নিরিবিলি। যেন সময় নিজেই থমকে দাঁড়িয়ে আছে অজানা এক পরিণতির অপেক্ষায়। সেই স্তব্ধতার আড়ালে চারদিকে ছড়িয়ে আছে এক নিদারুণ নিস্তব্ধতা যেন ঝড়ের আগে প্রকৃতির গভীর ও গুমোট নীরবতা আর দিগন্তজোড়া মহাঘূর্ণির আগমনী বার্তা।

সকাল গড়িয়ে যখন সময় দাঁড়ায় বেলা বারোটায় তখন সেই নীরবতার বুক চিরে ধেয়ে আসে এক অপ্রতিরোধ্য জনস্রোত। ছাত্রজনতার ঢল এসে আছড়ে পড়ে গণভবনের প্রধান ফটকের সামনে যেখানে অবস্থান করছিল ফেরাউনখ্যাত সেই ফ্যাসিস্ট শাসকের বাসভবন।

চোখে চোখে আগুন বুকে বুকে প্রতিশোধের দহন। টানা ৩৬ দিন ধরে চালানো নির্মম হত্যাযজ্ঞ রক্তস্নাত স্মৃতি আর দগদগে ক্ষতের হিসাব চুকাতে দেশের আনাচেকানাচে থেকে মানুষ নেমে আসে রাস্তায়। রাজধানীর উত্তরা মিরপুর মোহাম্মদপুর ধানমন্ডি শাহবাগ ফার্মগেট বাড্ডা রামপুরা যাত্রাবাড়ী প্রতিটি সড়ক যেন রূপ নেয় জনতার নদীতে আর সেই নদীগুলো একত্র হয়ে গড়ে তোলে এক অপ্রতিরোধ্য মহাপ্লাবন।

গণভবনের দিকে ধেয়ে আসে কোটি মানুষের এক গর্জনমুখর মহাপ্রলয় উদ্দেশ্য একটাই ৩৬ দিনের রক্তস্রোতের প্রতিশোধ দীর্ঘদিনের শ্বাসরুদ্ধকর শাসনের অবসান। কিন্তু ফেরাউনখ্যাত সেই ফ্যাসিস্ট শাসক আসন্ন পতনের অশনিসংকেত টের পেয়ে পেছনের দরজা দিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে পালিয়ে যায়।

ইতিহাসের পাতায় কিছু দিন কেবল ক্যালেন্ডারের নিস্তরঙ্গ সংখ্যা হয়ে থাকে না তারা হয়ে ওঠে সময়ের বুক চিরে লেখা কালজয়ী মহাকাব্য। সোমবার ৫ আগস্ট ২০২৪ ছিল তেমনই এক দিন যেদিন ভয় শঙ্কা আর দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অন্ধকার গহ্বর পেরিয়ে মানুষের হৃদয়ে জ্বলে ওঠে মুক্তির নতুন প্রদীপ।

সেদিন মানুষের চোখেমুখে ফুটে ওঠে এক অপরূপ উচ্ছ্বাস এক দুর্লভ আনন্দের দীপ্তি। মৃত্যুর মিছিল রক্তাক্ত স্মৃতি সবকিছুকে অতিক্রম করে সেদিন গণভবনের আঙিনায় জন্ম নেয় এক মহাউৎসব প্রফুল্লতা উৎফুল্লতা আর বিজয়ের সম্মিলিত উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। মানুষ যেন ফিরে পায় হারিয়ে যাওয়া স্বাধীনতার স্বাদ বহুদিনের বন্দিত্বের পর প্রথম মুক্ত বাতাসের স্পর্শ।

শুধু তাই নয় সেই উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে অভিনব সব দৃশ্যে। কেউ শাসকের শয়নকক্ষে গিয়ে তারই বিছানায় পা তুলে শুয়ে থাকে যেন প্রতীকীভাবে উল্টে দেয় ক্ষমতার আসন। কেউ তার ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে আসে স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে। কেউ বা তার হাঁসমুরগি মাছ পর্যন্ত নিয়ে যায় বিজয়ের নিশান হিসেবে।

এই সবকিছুর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে গত ১৬ বছরের জমে থাকা ক্ষোভ আক্রোশ বঞ্চনা আর ঘৃণার বিস্ফোরণ যা একদিনে জন্ম নেয়নি বরং সময়ের স্তরে স্তরে জমে ওঠা আগ্নেয় লাভার মতো একসময় ফেটে পড়েছে। আর তারই ধারাবাহিকতায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা।



banner close
banner close