গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব এবং সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিল, স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল লেটারহেড জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতারণা করে আসা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- ১। মোঃ ফারুক হোসেন ২। সাকিব খান ৩। মাসুম মুনসী ৪। মীর তৌহিদুল ইসলাম ও ৫। মোঃ বকুল মন্ডল।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় ডিবির একটি টিমের ধারাবাহিক অভিযানে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানা এলাকা থেকে মোঃ ফারুক হোসেন ও সাকিব খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকা থেকে মীর তৌহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের চাহিদার প্রেক্ষিতে কালকিনি থানা কর্তৃক গ্রেপ্তারকৃত মাসুম মুনসীকে ডিবি হেফাজতে নেয়া হয়। অপরদিকে কুষ্টিয়া মডেল থানা এলাকা থেকে চক্রের আরেক সদস্য মোঃ বকুল মন্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে বিভিন্ন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীপরিষদ সচিবদের অফিসিয়াল লেটারহেড প্যাড ০৪ বান্ডিল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও অন্যান্য উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিবর্গের সিল ও স্বাক্ষর সম্বলিত ৪১টি সিল, প্রতারণা ও জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত ০৮ টি মোবাইল ফোন, প্রতারণা ও জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত ০২ টি কম্পিউটার ও ০১ টি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।
ডিবি সূত্রে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত মোঃ ফারুক হোসেন ২০০৬ সালে তৎকালীন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন সাত টিটিসি স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পে ইলেকট্রিশিয়ান পদে চাকরিতে যোগ দেন। ২০১৪ সালে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর পুনর্বহালের উদ্দেশ্যে তিনি জালিয়াতির আশ্রয় নেন। নিজের চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য তিনি বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নামে জাল সিল, স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল লেটারহেড ব্যবহার করে একটি ফাইল প্রস্তুত করেন। একই সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর 'Priority' সিলের নকল ব্যবহার করে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে তিনি একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্র গড়ে তুলে বিভিন্ন প্রতারণামূলক তদবির কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে।
তদন্তে জানা যায়, লিখিত নথি জালিয়াতির পাশাপাশি চক্রটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসারের ছবি ব্যবহার করে একটি ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাকরি পুনর্বহালের জন্য চাপ সৃষ্টি করত। একই কৌশলে মলদোভায় জনশক্তি রপ্তানি সংক্রান্ত একটি জাল সুপারিশপত্রও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব ও সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে জাল সিল, স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল লেটারহেড তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রভাব বিস্তার এবং প্রতারণামূলক তদবির-বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছিল। তারা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের প্যাড, জাল সুপারিশপত্র ও ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে অবৈধ সুবিধা আদায়ের অপচেষ্টা চালাত।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। এ চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
আরও পড়ুন:








