বাংলাদেশ, শুধু একটি দেশ, একটি মানচিত্র কিংবা একটি স্থানের নাম নয়; এটি ২০ কোটি বাঙালির চেতনার প্রতিচ্ছবি। কিন্তু আজ সেই চেতনার ভেতরেই ধীরে ধীরে জন্ম নিচ্ছে অভিশপ্ত এক বিষাক্ত বাস্তবতা। সমালোচকদের ভাষায়, এই বিষের স্তূপ দেশের মানুষকে ভেতর থেকে ধীরে ধীরে ফাঁপা করে দিচ্ছে, বিলীন করে দিচ্ছে শরীর, মন এবং নৈতিক ভিত্তি। এভাবেই কথাগুলো তুলে ধরা হয় জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের ফেসবুক পেজ থেকে।
ফেসবুক পোস্টে তীব্র সমালোচনা
তবে, এই আলোচনা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই ধাপে ধাপে, সময়ের পরতে পরতে খাদ্য থেকে শুরু করে কৃষি, চিকিৎসা, পরিবেশ, প্রায় সব ক্ষেত্রেই এই বিষাক্ততার বিস্তার ঘটেছে। সম্প্রতি এ নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও বিসিবির সাবেক পরিচালক আসিফ আকবরের পেজের এক তীব্র ও ব্যথাতুর ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া ওই স্ট্যাটাস যেন তুলে ধরেছে এক অস্বস্তিকর বাস্তবতার নির্মম আয়না।
খাদ্যে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন
ওই ফেসবুক স্ট্যাটাসে খাদ্যে ভেজাল ও মানুষের অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিয়ে দীর্ঘ এক আক্ষেপ প্রকাশ পেয়েছে। রেস্তোরাঁর খাবার থেকে শুরু করে চিপস, নুডলস, দুধ এবং শিশুখাদ্য, সবকিছুতেই সর্বোচ্চ মাত্রার ভেজাল রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। পোস্টের ভাষায়, যেন ভেজালই আজ নিয়ম, আর বিশুদ্ধতা ব্যতিক্রম।
দুনিয়া যেখানে ড্রোন প্রযুক্তির উৎকর্ষে আকাশ ছুঁতে ব্যস্ত, সেখানে দেশের বাস্তবতা যেন আটকে আছে রিকশার ‘থ্রিডি রেসিং’-এ, শৃঙ্খলার অবক্ষয়ে সড়কজুড়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা, পঙ্গুত্ব এবং মৃত্যুর মিছিল। এই বৈপরীত্যই উঠে এসেছে স্ট্যাটাসে, যেখানে উন্নয়নের স্বপ্ন আর বাস্তবতার ফারাক স্পষ্ট হয়ে ওঠে নির্মমভাবে।
সামগ্রিক সংকট ও নিরাপত্তাহীনতা
অপরদিকে, দেশের চলমান সামগ্রিক সংকট নিয়েও তীব্র সমালোচনা করা হয় পোস্টে। গ্যাসের অসংগতি, জ্বালানি তেলের সংকট, ব্যাংক লুট, মানি লন্ডারিং, সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দলবাজি, সব মিলিয়ে এক জটিল অস্থিরতার চিত্র তুলে ধরা হয় লেখায়। একইসঙ্গে ধর্ষণ, বলাৎকার, খুন, গুম ও নিরাপত্তাহীনতার বিস্তারকে চিহ্নিত করে এক নৈমিত্তিক বাস্তবতায় জানানো হয়, মানুষের জীবন যেন প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তার মুখে।
নকল ওষুধের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা
এছাড়াও, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও পোস্টে তুলে ধরা হয়। সেখানে লেখা হয়, বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করায় মেডিকেল চেকআপ করাতে গেলে জানা যায়, ব্লাড প্রেসারের জন্য ভুক্তভোগী যে ওষুধ গ্রহণ করছিলেন তা নকল। চিকিৎসকের ভাষায়, সেই ওষুধ কার্যকর নয়, বরং আটা দিয়ে তৈরি বলেও ইঙ্গিত দেয়া হয়। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার এমন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ উঠে আসে লেখায়।
৯২ শতাংশ মুসলমানের এই দেশে তবে অপরাধী কারা, এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়া হয় পোস্টে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়েও একজন নাগরিক কি অন্তত নির্ভেজাল ওষুধ খেয়ে মৃত্যুবরণ করার নিশ্চয়তাও পাবে না? লেখায়, এই প্রশ্নের মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে এক গভীর হতাশা, এক নীরব হাহাকার, এবং রাষ্ট্র ও দায়িত্বরতদের প্রতি এক তীক্ষ্ণ অভিযোগের তীর।
এ নিয়ে বিশ্লেষকরাও দিচ্ছে সতর্কবার্তা।
আসিফ আকবরের পেজের ওই স্ট্যাটাস কেবল ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং এটি একটি বৃহত্তর সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন, যেখানে প্রতিটি স্তরে জমে থাকা অনিয়ম, অবহেলা ও অবক্ষয় মিলিয়ে গড়ে উঠছে এক উদ্বেগজনক চিত্রপট। প্রশ্ন এখন একটাই, এই বিষাক্ত বাস্তবতা থেকে মুক্তির পথ কোথায়, আর সেই পথ দেখাবে কে?
আরও পড়ুন:








