শনিবার

১ আগস্ট, ২০২৬ ১৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩

বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা বন্ড চালু করলো যুক্তরাষ্ট্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:৫০

শেয়ার

বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা বন্ড চালু করলো যুক্তরাষ্ট্র
প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড নির্ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা (বি-১ ও বি-২) আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে বলতে পারবেন কনস্যুলার কর্মকর্তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক ফেডারেল নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত চূড়ান্ত বিধি অনুযায়ী, নতুন নিয়ম আগামী সোমবার (৩ আগস্ট) থেকে কার্যকর হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই ভিসা বন্ড কর্মসূচি বাংলাদেশসহ ৫০টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

তালিকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ৩০টিই আফ্রিকার। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানের নাম রয়েছে।

নতুন এই নিয়ম শুধু ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসা, অর্থাৎ বি-১ ও বি-২ ভিসা আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্যমতে, ২০২৫ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা ভিসা বন্ড কর্মসূচি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ওই কর্মসূচির অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, বন্ড ব্যবস্থা ভিসার শর্ত মেনে চলা নিশ্চিত করতে সহায়ক।

পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে পাঁচ হাজার, ১০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলারের বন্ড নেওয়ার সুযোগ ছিল। নতুন নিয়মে পাঁচ হাজার ডলারের বন্ডের বিধান তুলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে।

নতুন বিধিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে ভিসা ইস্যুর শর্ত হিসেবে আবেদনকারীর কাছে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড চাইতে পারবেন।

তবে সব আবেদনকারীকে বন্ড দিতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কোন ক্ষেত্রে বন্ড প্রয়োজন হবে, তা সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্মকর্তার বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার প্রবণতা কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন রোধে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

তবে অভিবাসন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এই নীতি বৈধ ভ্রমণকারীদেরও নিরুৎসাহিত করবে। তাদের মতে, উচ্চ অঙ্কের বন্ড অনেক আবেদনকারীর জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।

প্রসঙ্গত, দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন ভিসার আবেদন ফি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রমও যাচাই করা হচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং অভিবাসন আইন কার্যকর করতেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। পাশাপাশি জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি এবং বর্ণভিত্তিক বৈষম্যের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।



banner close
banner close