স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ অঞ্চলের মধ্যবর্তী শান্তিডাঙ্গা ও দুলালপুরে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। তবে প্রায় ৪৬ বছর পার হলেও নাম নিয়ে বিভ্রান্তি, বিতর্ক ও ভোগান্তির শেষ হয়নি। বিভিন্ন অফিসিয়াল কাগজ পত্রে নির্দিষ্ট কোনো নাম ব্যবহারের পরিবর্তে আলাদা আলাদা নাম ব্যবহার করা হয়। ফলে বিভিন্ন সময় নানান সংকটে ভুগতে হয় বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায়ও নেই নামের মিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন শহীদ জিয়াউর রহমানের উদ্বোধনকৃত ভিত্তিপ্রস্তরে 'বাংলাদেশ ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়' ও মেইন গেটে 'ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ' লেখা আছে। অপরদিকে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, 'এই আইনের বিধান অনুযায়ী একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হইবে, যাহা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় নামে অভিহিত হইবে'।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অফিসিয়াল কাগজ পত্রসহ সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে ব্যবহৃত আলাদা আলাদা নাম গুলো হলো- 'ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ', 'ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ, বাংলাদেশ', 'ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া', 'ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ', 'ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া-৭০০৩, বাংলাদেশ', 'ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ কুষ্টিয়া -৭০০৩।
নামের এই ভিন্নতাকে অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণের ক্ষেত্রে বাধা ও ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণের ক্ষেত্রে হওয়া ষড়যন্ত্রের মধ্যে এটা একটি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালটি কুষ্টিয়া জেলায় প্রতিষ্ঠিত হবে নাকি ঝিনাইদহে হবে এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই। অধিকাংশ কর্মকর্তা, কর্মচারীরা এই দুই জেলার স্থানীয় ব্যক্তি হওয়ায় তারা বিভিন্ন কাগজপত্রে নিজেদের জেলার নামকে প্রাধান্য দেন ও দুই অঞ্চলের প্রভাবশালী মহল বিশ্ববিদ্যালয়টির নামে নিজেদের জেলার নামকে প্রাধান্য দিতে চান বলে মনে করেন অনেকেই।
গত ২৪ এপ্রিল কেমন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল চাই শীর্ষক এক উন্নয়ন সংলাপে বাংলাদেশ সরকারের আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ও ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান ইবির নাম সম্পর্কে বলেন, 'ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া প্রস্তাবের দাবিকে সমর্থন করবো।' এতে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শেষ করা একাধিক চাকরি প্রার্থী সূত্রে জানা যায়, অনেক চাকরির অবেদনের ক্ষেত্রে ইবির একাধিক নাম থাকায় তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভোগান্তিতে ভুগতে হয়।
এর সংকটের সমাধান চেয়ে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, 'বিভিন্ন প্রশাসনের সময়ে তারা আলাদা আলাদা নাম ব্যবহার করেছে, এটার সমাধান হওয়া উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল নাম 'ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ'।
এ বিষয়ে ট্রেজারার প্রফেসর ড. ইদ্রিস আলী বলেন, 'এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। নাম দিয়েছেন ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’। ‘কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ বা ‘ঝিনাইদহ বিশ্ববিদ্যালয়’ নয়।'
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ, এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে আছে ও অফিসিয়াল নাম। ক্যাম্পাস একইসাথে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলার মাঝে হওয়ায় কোনোটাই অমুলক না এবং প্রশাসনিক সংকট এড়াতে এটা ব্যবহার করা হয়। এটা বিভ্রান্তিমূলক না, বেশিরভাগ সময়ই মানুষের ব্যবহারের জন্য বা জায়গা বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।'
আরও পড়ুন:








