সোমবার

২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২ শ্রাবণ, ১৪৩৩

আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ছাড়া নতুন বিনিয়োগ সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৫৭

শেয়ার

আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ছাড়া নতুন বিনিয়োগ সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত নতুন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিনিয়োগের প্রধান পূর্বশর্ত হলো নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ। এ কারণে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে কাজ করছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রামের আনোয়ারার বেলচূড়া এলাকায় চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীরা সবসময় নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশে তাদের পুঁজি বিনিয়োগ করতে চান। জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে সামান্যতম শঙ্কা থাকলেও বিদেশি বিনিয়োগ তো দূরের কথা, দেশীয় উদ্যোক্তারাও নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন না। এ কারণে সিইআইজেডসহ দেশের সব অর্থনৈতিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সক্রিয় রয়েছে। কোনো ধরনের নাশকতা বা অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনকে বাংলাদেশ ও চীনের কৌশলগত অংশীদারত্বের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে গড়ে ওঠা এই অর্থনৈতিক অঞ্চল দেশের শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) উদ্যোগে বাস্তবায়িত এই প্রকল্প বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের একটি দীর্ঘমেয়াদি মডেল। ৫০ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তির আওতায় শিল্পাঞ্চলটি পরিচালিত হবে এবং পরবর্তীতে আরও ৫০ বছর নবায়নের সুযোগ থাকবে।

বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা, নির্বিঘ্ন শিল্প কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের দ্রুত অনুমোদন, ইউটিলিটি সংযোগ এবং প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করছে। সরকার জি-টু-জি চুক্তির আওতায় দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই শিল্পাঞ্চল স্থানীয় মানুষের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলবে এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশ-চীনের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চায়নিজ অর্থনৈতিক অঞ্চলের চেয়ারম্যান ওয়াং বেংকিয়েন, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) ভাইস প্রেসিডেন্ট লি চাংগুই, বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত এইচ ই ইয়াও ইয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, ভূমি ও পার্বত্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।



banner close
banner close