বুধবার

২২ জুলাই, ২০২৬ ৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩

বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে দেওয়ার পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ জুলাই, ২০২৬ ২২:০১

শেয়ার

বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে দেওয়ার পরিকল্পনা
ছবি সংগৃহীত

বিদ্যুতের বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি খাতে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীরও সম্মতি রয়েছে এবং এখন থেকেই সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।

বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।

মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি খাতে গেলে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে, রাষ্ট্রের দায় কমবে এবং সেবার মান উন্নত হবে। তাঁর মতে, সরকার শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের দায়িত্বে থাকবে, আর বিতরণ কার্যক্রম বেসরকারি খাত পরিচালনা করবে। তিনি প্রতিবেশী দেশের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে বিভিন্ন শহরের বিতরণ ব্যবস্থা পৃথক কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই। একই সঙ্গে এলএনজি আমদানির অবকাঠামো শক্তিশালী করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন, যাতে একটি স্থাপনায় সমস্যা দেখা দিলে সারা দেশে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি না হয়।

তিনি বলেন, দেশে ২৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলা হলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিশ্চিত করতে গ্যাস অনুসন্ধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। খুলনায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হলেও সেখানে গ্যাস সরবরাহের অবকাঠামো এখনও গড়ে ওঠেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, একটি এফএসআরইউতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে গ্যাসের চাপ কমে গেছে এবং ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস ও সিএনজি সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে মানুষ সড়ক অবরোধও করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গ্যাস না পাওয়ায় বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। বর্তমানে জ্বালানি খাতে ৬৭ হাজার কোটি টাকার বকেয়া বিল রয়েছে, যা চলতি বিলের সঙ্গে পরিশোধ করতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার নতুন নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ঘোষণা করেছে। নির্দিষ্ট এলাকায় ক্লাস্টারভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন দরপত্র আহ্বান করা হবে এবং কয়েকটি চীনা কোম্পানি এ খাতে আগ্রহ দেখিয়েছে। সবার সহযোগিতা পেলে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান, যারা ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করবেন, তাদের কর রেয়াত দেওয়া হবে এবং হোল্ডিং ট্যাক্স কমানো হবে। অন্যদিকে যারা সৌর প্যানেল স্থাপন করবেন না, তাদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী, ট্রান্সকম গ্রুপের গ্রুপ সিইও সিমিন রহমান, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. এম রিজওয়ান খান, আইডিকলের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমগীর মোরসেদ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এনামুল হক এবং বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ।



banner close
banner close