বুধবার

২২ জুলাই, ২০২৬ ৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩

ইরাক থেকে ধর্ম প্রচারে এসে রাজনীতি শুরু করেন মুজিব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ জুলাই, ২০২৬ ২২:৩৩

আপডেট: ২১ জুলাই, ২০২৬ ২২:৫১

শেয়ার

ইরাক থেকে ধর্ম প্রচারে এসে রাজনীতি শুরু করেন মুজিব
ছবি এআই মাধ্যমে তৈরি

ইরাক থেকে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে এসে বাংলাদেশে রাজনীতি শুরু শেখ পরিবারের। তবে, সুকৌশলে এ দেশে হিন্দুত্ববাদ কায়েম চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে শেখ মুজিবুর রহমান ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। আলোচনা রয়েছে, শেখ মুজিবুর রহমান কিংবা মমতাজের পীরসহ অলি-আউলিয়াদের বংশধররা ইরাক থেকে এ দেশে এসেছিলেন ধর্ম প্রচারের জন্য। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, এটি সম্পূর্ণ অবাস্তব ও ভিত্তিহীন বক্তব্য। মূলত ধর্ম প্রচার নয়, বরং এ দেশে ভারতের আদর্শ ও হিন্দুত্ববাদ কায়েম করাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। আর এই যাত্রার শুরুটা হয়েছিল বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা কিংবা স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে। এর প্রথম ধাপ হিসেবেই সুকৌশলে আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেয়া হয়।

ইসলামি মূল্যবোধ মুছে ফেলার অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও পাঠ্যক্রম থেকে ইসলামি মূল্যবোধ মুছে ফেলার এক গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়। ১৯৭২ সালে ক্ষমতায় আসার পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও মনোগ্রাম থেকে ইকরা বিছমি রাব্বিকাল্লাযী খালাক বা কোরআনের আয়াত মুছে ফেলেন শেখ মুজিব। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুছে ফেলা হয় মুসলিম শব্দ। প্রখ্যাত আলেম দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিভিন্ন বক্তব্যেও ইতিহাস থেকে এই ইসলামি চিহ্ন মুছে ফেলার আক্ষেপ উঠে এসেছে। প্রশ্ন উঠছে, ১৯৭২ সালে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো থেকে ইকরা বিসমি সরিয়ে সেখানে ব্যঞ্জনবর্ণ অ, আ, ক, খ লিখে দেয়ার পেছনের আসল উদ্দেশ্য কী ছিল?

পাঠ্যক্রমে গরুর রচনা ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন

সাথে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে পাঠ্যপুস্তকের রচনা নিয়েও। বাংলাদেশের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার হওয়া সত্ত্বেও, ৭১-এর পর থেকে কেন গরুর রচনা বাধ্যতামূলক করা হলো? বিশ্লেষকরা বলছে, গরু ভারতের মাতা। ভারতের প্রতি সাংস্কৃতিক আনুগত্য থেকেই গরুকে এতো প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এমনকি পাঠ্যবইয়ে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মহেশ নামের গরুর গল্পটিকেও অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে পড়ানো হয়েছে যুগ যুগ ধরে। সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের শিকার হয়েছেন বিশ্বমানের মুসলিম কবি ও বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামও। পাঠ্যক্রমে তাকে সুকৌশলে উপেক্ষা করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অনেক উঁচুতে স্থান দেয়া হয়েছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। একজন মুসলিম কবি হওয়ায় নজরুলের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি বলে মনে করেন অনেকেই।

বিগত শাসনামলে পাঠ্যবইয়ে ব্যাপক পরিবর্তন

গত ১৭ বছরে মুজিব কন্যা শেখ হাসিনার শাসনামলেও পাঠ্যক্রমে আনা হয় ব্যাপক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পরিবর্তন। স্কুল-কলেজের বই থেকে নবী-রাসূলদের জীবনী বাদ দিয়ে, সেখানে শেখ মুজিবের বাবার নাম যুক্ত করা হয়। সেইসাথে ঢুকিয়ে দেয়া হয় হিন্দুত্ববাদী শিক্ষা। শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত জীবনেও এর প্রভাব স্পষ্ট। পূজায় অংশগ্রহণ, ভারতের সাথে অতিরিক্ত সখ্যতা, অন্যের ধর্মীয় উৎসবে অতি-উৎসাহ এবং তার ছেলে-মেয়েদের বিয়ের ধরন, সবকিছুতেই হিন্দুত্ববাদের প্রতি এক ধরনের বিশেষ দুর্বলতা লক্ষ্য করা গেছে। তার ধারাবাহিকতাতেই যেন, শেখ হাসিনার একমাত্র ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ক্রিস্টিন ওভারমায়ার নামের একজন আমেরিকান খ্রিস্টান নারীকে বিয়ে করেছিলেন। এমনকি শেখ হাসিনা ভারতের নিয়ম মেনে তাদের মিশন বাস্তবায়ন করে হিন্দু ধর্মের দুর্গা দেবী সেজেছেন বলেও সমালোচনা রয়েছে।

ধর্মীয় আচরণ ও জনমনে সমালোচনা

অন্যদিকে, শেখ হাসিনাকে হজরত বলে সম্বোধন করে খোদ সংসদেই আওয়ামী লীগের এমপিরা নামের পূর্বে হজরত শব্দটি যুক্ত করার প্রস্তাব দেন। এরই মাঝে, নিয়মিত বুখারী শরীফ পড়ার দাবি করেন শেখ হাসিনা। তবে, হাসিনার কোরআনের আয়াত ঠিকভাবে উচ্চারণ করতে না পারা নিয়ে বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্ব দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী কঠোর সমালোচনা করেন।

ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সচেতন মহলের দাবি

পরিসংখ্যান বলছে, ৯৫ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত একটি দেশ বাংলাদেশ। তাই এখানকার শিক্ষাব্যবস্থা কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। পাঠ্যপুস্তকে অবশ্যই নবী-রাসূলদের আদর্শ, উত্তম আখলাক ও চরিত্র গঠনের শিক্ষা থাকতে হবে বলে দাবি সচেতম মহলের। সেইসাথে মতামত রয়েছে, কিয়ামত, হাশর এবং চুরি, মদ, জুয়ার মতো খারাপ কাজের শাস্তির বিষয়ে শিশুদের সচেতন করার। পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক আধুনিক শিক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে, যেন নতুন আবিষ্কার ও জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করতে পারে।



banner close
banner close