সোমবার

২০ জুলাই, ২০২৬ ৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩

পিনাকী-সায়েরের বাকযুদ্ধে সরব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২৬ ২২:১২

শেয়ার

পিনাকী-সায়েরের বাকযুদ্ধে সরব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
ছবি সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উত্তপ্ত বাকযুদ্ধে জড়িয়েছেন বাংলাদেশের দুই পরিচিত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। তাদের পোস্টে ব্যবহৃত তীক্ষ্ণ ভাষা, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং ব্যক্তিগত আক্রমণে তৈরি হয়েছে টানটান উত্তেজনা।

বিতর্কের সূত্রপাত

সম্প্রতি নৌবাহিনীর কর্মকর্তা রিয়ার অ্যাডমিরাল খন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ঘিরে একটি ফেসবুক পোস্ট থেকেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুলকারনাইন সায়ের তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে মিসবাহ উল আজীমের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনের ছবি শেয়ার করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ভুয়া বিল-ভাউচার সংক্রান্ত অনিয়মে জড়িত ছিলেন। একইসঙ্গে তাকে নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি নিয়েও বিদ্রুপ করতে দেখা যায় সায়েরকে।

পিনাকীর প্রতিক্রিয়া

এই পোস্টের পরপরই পিনাকী ভট্টাচার্যের একটি প্রতিক্রিয়া সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, নৌ বা সেনাপ্রধান নিয়োগ একটি এক্সিকিউটিভ সিদ্ধান্ত, এটি কোনো ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হয় না। তিনি আরও বলেন, যদি সেনাপ্রধান নৌবাহিনীর প্রধান নির্বাচনে আপত্তি থাকে, তবে সেটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করা উচিত।

একইসঙ্গে পিনাকী ভট্টাচার্য এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নথি কীভাবে বাইরে এলো? তা তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করা জরুরি। তার প্রশ্ন, যে এসিআর একজন ব্যক্তির কাছে পৌঁছাতে পারে, তা বিদেশি সংস্থার কাছে পৌঁছাতে কতক্ষণ লাগবে? অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নামে ব্যক্তিগত তথ্য, অডিও কল বা গোপন নথি প্রকাশের বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নেন তিনি।

আরেক পোস্টে পিনাকী ভট্টাচার্য দাবি করেন, এ ধরনের তথ্য ফাঁস রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। সংশ্লিষ্ট আইনে অনুমোদনহীনভাবে গোপন তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ বা প্রকাশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড, এমনকি প্রায় ১৪ বছর পর্যন্ত সাজাও হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ

এছাড়াও, জুলকারনাইন সায়েরের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন পিনাকী। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সায়ের তাকে ফোন করে জানান যে, সেনাপ্রধান তার সঙ্গে কথা বলতে চান। পরে নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত সেনাপ্রধানের পরিবর্তে মেডিক্যাল কোরের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলানো হয়। এতে পুরো বিষয়টিকে পিনাকী যোগাযোগের ভান তৈরি এবং প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হিসেবে দেখেন। তার অভিযোগ, উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে নিজের যোগাযোগের পরিধি বড় করে দেখানোর প্রবণতা রয়েছে সায়েরের মধ্যে।

আরেকটি পোস্টে পিনাকী দাবি করেন, সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের সঙ্গে সমঝোতা তৈরির জন্যও সায়ের তাকে মধ্যস্থতার অনুরোধ করেছিলেন। এসময় জুলকারনাইনের উদ্দেশে কড়া ভাষা প্রয়োগ করেন পিনাকী ভট্টাচার্য।

সায়েরের পাল্টা জবাব

তবে এসব অভিযোগের পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেননি জুলকারনাইন সায়ের। নিজের ফেসবুক পেজে তিনি দাবি করেন, তিনি নন বরং পিনাকী ভট্টাচার্যই তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করানোর চেষ্টা করলেও তারা রাজি হননি, তবে শেষ পর্যন্ত একজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলাতে সক্ষম হন। নিজের দাবির পক্ষে সায়ের কয়েকটি স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেন পোস্টের মন্তব্যের ঘরে।

জুলকারনাইন সায়েরের এই পোস্টের পর পিনাকী ভট্টাচার্যও সায়েরের সঙ্গে কথোপকথনের স্ক্রিনশট শেয়ার করে পাল্টা পোস্ট করেন। তিনি দাবি করেন, সেনাপ্রধান ইস্যুতে তিনি নন, বরং সায়েরই তাকে একাধিকবার কল করেছিলেন।

সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা

সবমিলিয়ে দুই পক্ষের এই তীব্র বাকযুদ্ধ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কেউ এটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন, আবার অনেক নেটিজেন পুরো ঘটনাকে কৌতুক ও বিনোদনের দৃষ্টিতেও দেখছেন। অনেকেই আবার এটিকে আর্জেন্টিনা-স্পেন ফুটবল বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ফাইনাল ম্যাচের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, এমন প্রকাশ্য কাদা ছোড়াছুড়ির পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসাই হতে পারে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সমাধান।



banner close
banner close