রাজধানী ঢাকার গুলশানে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রবিবার দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, আদালতের আদেশে সকাল সাড়ে ১০টায় সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ফ্ল্যাটে প্রবেশ ও ইনভেন্টরি (জিনিসপত্রের তালিকাকরণ) কার্যক্রম শুরু হয়।
২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগ ওঠে। একই বছর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। সংস্থাটি অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করে।
গত ২ জুলাই দুদকের উপ-পরিচালক মশিউর স্বাক্ষরিত এক চিঠি সূত্রে জানা যায়, আদালতের আদেশে আজ সাইফুজ্জামানের গুলশানের দুটি ফ্ল্যাট নিয়ন্ত্রণে নেবে দুদক।
চিঠিতে বলা হয়, সাবেক ভূমিমন্ত্রী এবং তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পদ গুলশানের ৬৬ নম্বর সড়কের নর্থওয়েস্ট (বি) ব্লকের ১১ নম্বর প্লটের তিন হাজার ৭৪৭ বর্গফুট আয়তনের এ-৭ নম্বর ফ্ল্যাট এবং তিন হাজার ৮৩২ বর্গফুটের বি-৭ নম্বর ফ্ল্যাট দুটির সঠিক নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রিসিভার হিসেবে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, আদালতের আদেশে তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট দুটি রিসিভারের দখলে নেওয়া এবং অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুপস্থিতিকালে বিনা বাধায় ওই ফ্ল্যাটে রিসিভারের প্রবেশ এবং মালামালের তালিকা করার সময় দায়িত্ব পালনের জন্য গুলশান রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিলয় রহমানকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি সাইফুজ্জামানের নামে যুক্তরাজ্যে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রোকের নির্দেশ দেন আদালত। আর ১৩ জানুয়ারি আরব আমিরাতসহ আট দেশে থাকা তার ৩৩০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দেন আদালত। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে তার নামে থাকা দুটি কোম্পানিতে করা বিনিয়োগ অবরুদ্ধেরও আদেশ দেয়া হয়েছে। এসব সম্পদ ও বিনিয়োগের মোট পরিমাণ প্রায় দুই হাজার ৩২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
সাইফুজ্জামান ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আরও পড়ুন:








