রবিবার

১৯ জুলাই, ২০২৬ ৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩

বিতর্কিত নির্বাচনে জড়িত ৩৬ কর্মকর্তা অবসরে যাচ্ছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২৬ ০৯:০৯

শেয়ার

বিতর্কিত নির্বাচনে জড়িত ৩৬ কর্মকর্তা অবসরে যাচ্ছেন
ছবি এআই মাধ্যমে তৈরি

আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিশেষ ভূমিকা রাখা এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা প্রশাসনের বিতর্কিত ৩৬ কর্মকর্তার তালিকা চূড়ান্ত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে ৬৪ জেলার সাবেক জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ৩০ জন রয়েছেন বলে সরকারের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় বিধান অনুযায়ী তাদের শিগগির বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে। বিসিএস ২০তম ব্যাচের এসব কর্মকর্তা বর্তমানে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে কর্মরত আছেন।

সূত্র আরও জানায়, শেখ হাসিনার আমলে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে ভূমিকা রাখা আরও একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি হয়েছে, যেখানে বিসিএস ২১, ২২, ২৪, ২৫ ও ২৭তম ব্যাচের জেলা প্রশাসক, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রীদের একান্ত সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তারা রয়েছেন। তবে তাদের চাকরির বয়স এখনো ২৫ বছর পূর্ণ হয়নি।

গত ৭ জুলাই জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী জানান, বিগত সরকারকে দীর্ঘস্থায়ী করতে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রকাশ্যে কাজ করেছেন তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এ লক্ষ্যে বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলেও তিনি জানান।

এর আগে গত ৫ জুলাই ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় বিভিন্ন জেলায় পুলিশ সুপারের দায়িত্বে থাকা ৩৩ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় সরকার। এ ছাড়া ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা ২২ জেলা প্রশাসককে বাধ্যতামূলক অবসর দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এর একদিন পর নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তৎকালীন স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে ৬৪ জেলার দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদেরও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হবে।

অবসরে যেতে পারেন যারা:

যাদের শিগগির বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হতে পারে তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সচিব (পিএস-১) মনিরা বেগম ও পিএস-২ আল মামুন মোর্শেদ। এ ছাড়া তৎকালীন সময়ে জেলা প্রশাসক ছিলেন— চাঁদপুরের মো. মাজেদুর রহমান খান, পটুয়াখালীর মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, কুড়িগ্রামের মোছা. সুলতানা পারভীন, কিশোরগঞ্জের মো. সারওয়ার মোর্শেদ চৌধুরী, খাগড়াছড়ির মো. শহীদুল ইসলাম, খুলনার মো. হেলাল হোসেন, বান্দরবানের মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, বরিশালের এস এম অজিয়র রহমান, চুয়াডাঙ্গার গোপাল চন্দ্র দাশ, শরীয়তপুরের কাজী আবু তাহের, রাজশাহীর এস এম আব্দুল কাদের, কুমিল্লার আবুল ফজল মীর, শেরপুরের আনারকলি মাহবুব, নরসিংদীর সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, ময়মনসিংহের মো. মিজানুর রহমান, নেত্রকোনার মঈন উল ইসলাম, সুনামগঞ্জের মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, হবিগঞ্জের মাহমুদুল কবির মুরাদ, রাঙামাটির এ কে এম মামুনুর রশিদ, ফেনীর ওয়াহেদুজ্জামান, কক্সবাজারের মো. কামাল হোসেন, ঝিনাইদহের সরোজ কুমার নাথ, ভোলার মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, নীলফামারীর নাজিয়া শিরিন, কুষ্টিয়ার মো. আসলাম হোসেন, নাটোরের শাহ রিয়াজ, পাবনার মো. জসিম উদ্দিন, মানিকগঞ্জের এস এম ফেরদৌস, লক্ষ্মীপুরের অঞ্জন চন্দ্র পাল ও চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন।

তালিকায় আরও রয়েছেন সাবেক স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের একান্ত সচিব ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হোসেন, তৎকালীন বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব নিরোধ চন্দ্র মণ্ডল, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম ও এস এম শাহ হাবিবুর রহমান হাকিম।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিসিএস ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তারা ২০০১ সালের ৩১ মে চাকরিতে যোগ দেন। সে হিসাবে গত ৩০ মে তাদের চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। সরকারি চাকরি আইনের ৪৫ ধারা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর যেকোনো সময় জনস্বার্থে কোনো কারণ না দেখিয়েই তাকে অবসর দেওয়ার ক্ষমতা সরকারের রয়েছে।



banner close
banner close