শুক্রবার

১৭ জুলাই, ২০২৬ ২ শ্রাবণ, ১৪৩৩

হিন্দু নামে কলকাতায় থাকতেন প্রেসিডেন্ট জিয়ার হত্যাকারী মোজাফফর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ জুলাই, ২০২৬ ২১:২৯

শেয়ার

হিন্দু নামে কলকাতায় থাকতেন প্রেসিডেন্ট জিয়ার হত্যাকারী মোজাফফর
ছবি সংগৃহীত

প্রায় ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৯৮১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন। বুধবার (১৫ জুলাই) মধ্যরাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে আটক করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা হত্যা করেন। ওই ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে মোজাফফর হোসেনসহ একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীতে দমন অভিযান চালানো হয়। অন্যতম আলোচিত কর্মকর্তা মেজর জেনারেল এম এ মঞ্জুর নিহত হন এবং কয়েকজনকে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

মোজাফফর হোসেন ১৯৮১ সালে ২৪ পদাতিক ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন। তিনি জাতীয় রক্ষীবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে তাকে এই মামলার ‘একমাত্র জীবিত আসামি’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

কলকাতায় আত্মগোপন

নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুসারে, হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতের কলকাতায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার আশ্রয়ে ছিলেন। সেখানে পরিচয় গোপন করতে তিনি বিপ্লব সরকার ও জয় ব্যানার্জি নামে হিন্দু পরিচয়ে বসবাস করতেন। ১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে আসেন এবং পরিবার নিয়ে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকায় থাকতেন।

নতুন আলোচনা ও দাবি

মোজাফফর হোসেনের গ্রেপ্তারের পর জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ঘটনা উদঘাটনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন মহলে সত্য উদঘাটনের জন্য একটি জাতীয় কমিশন গঠনের দাবি উঠেছে। সেনাবাহিনীসহ প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্থার সমন্বয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার পুর্নাঙ্গ চিত্র উন্মোচনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই তদন্ত প্রতিহিংসার জন্য নয়, বরং সত্য উদঘাটন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নির্ভুল ইতিহাস সংরক্ষণের স্বার্থে জরুরি।

মোজাফফর হোসেনের গ্রেপ্তার ও পরবর্তী তদন্তের অগ্রগতি দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনী কর্তৃপক্ষ এখন তার কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে গণমাধ্যম।



banner close
banner close