শুক্রবার

১৭ জুলাই, ২০২৬ ২ শ্রাবণ, ১৪৩৩

গোপন বৈঠকে স্বৈরাচারের দোসরদের চক্রান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ জুলাই, ২০২৬ ২১:০৫

শেয়ার

গোপন বৈঠকে স্বৈরাচারের দোসরদের চক্রান্ত
ছবি সংগৃহীত

ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত জুলাইয়ের স্মৃতি এখনো তরতাজা। এর মাঝেই রাজধানীর বুকে আবারও গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট কয়েকজন সুবিধাভোগী। বুধবার রাতে তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতাল সংলগ্ন একটি রেস্টুরেন্টে জড়ো হন সাংবাদিক মুন্নী সাহা, জ. ই. মামুন, প্রভাষ আমিন এবং নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন।

অভিযোগ ও লুকোচুরি

অভিযোগ রয়েছে, মদ্যপ অবস্থায় তারা সেখানে সরকারবিরোধী কোনো বড় ধরনের চক্রান্তের জাল বুনছিলেন। কিন্তু জনতার উপস্থিতি টের পেয়েই শুরু হয় তাদের লুকোচুরি। রোষানল থেকে বাঁচতে একপর্যায়ে ক্ষমা চেয়ে এবং পুলিশের সাহায্য নিয়ে কার্যত পালিয়ে বাঁচেন এই বিতর্কিত মুখগুলো।

পরিচিত মুখ ও অতীত ভূমিকা

মিটিংয়ে অংশ নেয়া মানুষগুলো এদেশের মানুষের কাছে খুবই পরিচিত, তবে তা কোনো ইতিবাচক কারণে নয়। মুন্নী সাহা বিগত সরকারের আমলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ভূলুণ্ঠিত করে একপেশে সংবাদ ও বয়ান তৈরির অন্যতম কারিগর বলে সমালোচনা রয়েছে। জ. ই. মামুন ও প্রভাষ আমিনদের টকশো আর কলামের আড়ালে ফ্যাসিবাদের গুণগানে মত্ত থাকতে দেখা যেতো। এমনকি জুলাইয়ের ছাত্রহত্যার সময়ও যাদের কণ্ঠ ছিল স্বৈরাচারের পক্ষে। অন্যদিকে মেহের আফরোজ শাওন সংস্কৃতির মোড়কে সুবিধাভোগীদের কাতারে ছিলেন প্রথম সারিতে। মূলত এরা ছিলেন বিগত দেড় দশকের সেই সুশীল ঢাল, যারা গুম খুন আর মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনাগুলোকে মিডিয়ার মাধ্যমে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করে গেছেন।

প্রোপাগান্ডা ও সুবিধা

তারা শুধু সাংবাদিক বা নির্মাতা নয়, সমালোচনা রয়েছে তারা ফ্যাসিবাদের অন্যতম শক্তিশালী প্রোপাগান্ডা মেশিন। বিনিময়ে বাগিয়ে নিয়েছেন প্লট ফ্ল্যাট ব্যাংক লোন আর রাষ্ট্রীয় নানা সুযোগ-সুবিধা। দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা যখন বিদেশে পাচার হয়েছে সাধারণ মানুষ যখন বাকস্বাধীনতাহীনতায় ভুগেছে তখন এই সিন্ডিকেটকে ক্ষমতার কাছাকাছি থেকে নিজেদের আখের গোছাতে দেখা গেছে। ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে দেশ নতুন করে স্বাধীন হয়েছে তখন এই সুবিধাভোগীরাই আবার এক হচ্ছেন খুঁজছেন অস্থিতিশীলতার সুযোগ।

অভিযোগ ও প্রশ্ন

স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার এই দোসরদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। কয়েকদিন আগেই মেহের আফরোজ শাওনের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থান কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা নিয়ে মামলাও দায়ের হয়েছে। এরপরও তারা কীভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে? প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়ে। রাজধানীর বুকে বসে গোপন বৈঠক করার দুঃসাহস তারা কোথায় পাচ্ছে? হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি হওয়ার পরও প্রশাসন কেন তাদের গ্রেপ্তার করছে না? এসব প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজছে সচেতন মহল।

অভিযুক্তদের দাবি ও জনতার প্রতিক্রিয়া

যদিও অভিযুক্তদের দাবি তারা মূলত হেনস্থার শিকার হয়েছেন এবং পরিস্থিতি থেকে বাঁচতেই পুলিশের আশ্রয় নিয়েছেন। তবে ছাত্র-জনতা আর কোনো অজুহাত শুনতে নারাজ। তাদের দাবি স্পষ্ট যারা বিগত দিনে ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে কাজ করেছে তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া যাবে না। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি সর্ব মহলের।



banner close
banner close