শুক্রবার

১৭ জুলাই, ২০২৬ ২ শ্রাবণ, ১৪৩৩

কীভাবে পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ করলো ভারত; সংসদে জানালেন প্রিয়াঙ্কা

নিউজ ডেস্ক: বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ১৭ জুলাই, ২০২৬ ২০:৩৮

শেয়ার

কীভাবে পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ করলো ভারত; সংসদে জানালেন প্রিয়াঙ্কা
ছবি এআই মাধ্যমে তৈরি

বাংলাদেশ-পাকিস্তান বিভাজন, বাংলাদেশ সৃষ্টিতে ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকা নিয়ে তার নাতনি ও কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মন্তব্য।

তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের শাসনামলে ইন্দিরা গান্ধী অত্যন্ত সফল ও চতুর কূটনীতির মাধ্যমে পাকিস্তানের মধ্যে বিভাজন ঘটিয়েছিলেন এবং বাংলাদেশ সৃষ্টিতে মূল ভূমিকা রেখেছিলেন বলে আলোচনা উঠেছে। এই বিশাল ঐতিহাসিক ঘটনার পেছনে ইন্দিরা গান্ধীর একক ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও তিনি কখনো রাজনৈতিক কৃতিত্ব দাবি করেননি বলে মন্তব্য করেছেন ইন্দিরা গান্ধীর নাতনি প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।

সংসদে প্রিয়াঙ্কার বক্তব্য

ভারতের সংসদে বিজেপির অপারেশন শিদুর-এর কৃতিত্ব নিয়ে বিতর্কের জবাব দিতে গিয়ে নিজের দাদি ও ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বন্দনা করেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।

তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা নিয়ে আগে থেকেই নানা ধরনের বিতর্ক রয়েছে। অনেকেই মনে করে ভারত মূলত সাহায্যের নামে নিজেদের আখের গুছিয়েছে এবং নিজেদের সুবিধা নিতেই দুই পাকিস্তানের ভেতরে ভাঙন সৃষ্টি করেছে। ইতিহাসবিদদের একটি বড় অংশও মনে করে কোনো রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কেবল মানবিক আবেগের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয় না। বরং নিরাপত্তা কৌশলগত স্বার্থ অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য এসবই পররাষ্ট্রনীতির মূল চালিকাশক্তি। সে অর্থে ভারতও সেসময় নিজেদের স্বার্থকেই সামনে রেখেছিল।

বিতর্ক উসকে দিলেন প্রিয়াঙ্কা

দীর্ঘদিনের সেই বিতর্ককেই যেন এবার আরও উসকে দিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। আগে থেকেই চলা সেই বিতর্কের ধারাবাহিকতায় প্রিয়াঙ্কার এই মন্তব্য যেন এক ধরনের প্রমাণ হাজির করেছে। অনেকেই বলছে তার এই বক্তব্য আবারও মনে করিয়ে দেয় যে ইন্দিরা গান্ধী ভারতের লাভের জন্যই কৌশল করে বাংলাদেশকে আলাদা করেছিলেন।

দুই দেশের সম্পর্কের প্রশ্ন

স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর দুই দেশের সম্পর্ক কতটা ভারসাম্যপূর্ণ। সেই প্রশ্ন বাংলাদেশের অনেকের মধ্যেই দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। সীমান্তে প্রাণহানি অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন বাণিজ্য বৈষম্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা অর্থনৈতিক নির্ভরতা এবং কূটনৈতিক সমতা নিয়ে নানা বিতর্ক সময়ে সময়ে সামনে এসেছে। এসব বিষয় এদেশের মানুষের মধ্যে আত্মমর্যাদা সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ নিয়ে নতুন করে ভাবনার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে অতীতের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা ও বিতর্ক চলতেই পারে কিন্তু ভবিষ্যৎ নির্মাণের দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মের। তাই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে বিভাজন নয় বরং আত্মবিশ্বাস ঐক্য ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে। সঠিক ইতিহাস মেনে কোনো একক দেশের তাঁবেদারি থেকেও বের হয়ে আসার আহ্বান সবার।



banner close
banner close