শুক্রবার

১৭ জুলাই, ২০২৬ ২ শ্রাবণ, ১৪৩৩

নির্বাচিত সরকারই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৫৮

শেয়ার

নির্বাচিত সরকারই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে: মির্জা ফখরুল
ছবি সংগৃহীত

বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। এ বিষয়ে বিরোধীদল জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদ রিসার্চ সেন্টার ও জাতীয় সাংবাদিক সমিতি যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলো এর বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে সনদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করবে। বিরোধীদল এ বিষয়টির ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলেও তিনি দাবি করেন।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে গণভোটের কথা বলা হচ্ছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। বিশেষ করে উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে দলটি কখনোই একমত ছিল না। সংস্কার কমিশন বিএনপির সম্মতি ছাড়াই কিছু প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবিধান নিয়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, দলটি সংবিধান সংস্কারের নয়, বরং প্রয়োজনীয় সংবিধান সংশোধনের পক্ষে। জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অধিকার নির্বাচিত সরকারের রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান প্রবর্তনে বিএনপির ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এসব অর্জন বিএনপির উদ্যোগেই বাস্তবায়িত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিরোধীদলের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে জুলাই সনদকে ব্যবহার করতে চাইছে। তবে বিএনপি জুলাইয়ের আন্দোলনকে কেবল একটি সময়ের ঘটনা হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিক ফল হিসেবে দেখে।

তিনি বলেন, গত প্রায় ১৮ থেকে ১৯ বছর ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিএনপির লাখো নেতাকর্মী মামলা, গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। তাই আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা উচিত নয়।

গণতন্ত্র প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশকে উদার গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে নিতে হবে। বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে সব রাজনৈতিক শক্তিকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বিদ্যমান সংকটের সমাধান সহজ নয়; ধৈর্য ও গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে ধাপে ধাপে সমস্যার সমাধান করতে হবে।

স্মরণসভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক দর্শনের ধারক ছিলেন। সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী তাঁকে নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, কৃতি গবেষক ও মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এমাজউদ্দিন আহমেদ রিসার্চ সেন্টারের আহ্বায়ক অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুদ, যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজসহ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকরা। শেষে অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।



banner close
banner close