শুক্রবার

১৭ জুলাই, ২০২৬ ২ শ্রাবণ, ১৪৩৩

মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের গুঞ্জন, আলোচনায় শিক্ষা-স্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৪৬

শেয়ার

মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের গুঞ্জন, আলোচনায় শিক্ষা-স্বাস্থ্য
ছবি সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের গুঞ্জন উঠেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক পরিবহন ও কৃষিসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নতুন মুখ আসতে পারে। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানোর বিষয়েও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উন্নয়ন এজেন্ডা দ্রুত বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই সম্ভাব্য এই রদবদলের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

এর আগে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ৪৬ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেন। পরে ধাপে ধাপে তা বেড়ে ৬০ সদস্যে উন্নীত হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, সময়ের সঙ্গে তারেক রহমান সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যাও বাড়তে পারে।

পরিবর্তন স্বাভাবিক, সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক বিষয়। তবে এটি এখনই হবে কিংবা নির্দিষ্ট কোনো সময়েই হতে হবে, এমন নয়। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। তিনি উপযুক্ত মনে করলে নতুন কাউকে দায়িত্ব দিতে পারেন বা কারও দায়িত্ব পরিবর্তন করতে পারেন।

রাজনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য এই রদবদলে কয়েকজন অভিজ্ঞ নেতাকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টামণ্ডলীতে যুক্ত করা হতে পারে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা

চলমান আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দুর্যোগকালীন পরীক্ষা গ্রহণসংক্রান্ত কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বিব্রত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ কারণে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে অন্য মন্ত্রণালয়ে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহাদী আমিনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। তরুণ ও উচ্চশিক্ষিত নেতৃত্বের মাধ্যমে শিক্ষা খাতের সংস্কার আরও গতিশীল করতেই এমন চিন্তাভাবনা চলছে বলে সূত্রের দাবি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তনের ইঙ্গিত

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়েও রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। বিভিন্ন সেমিনার ও সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী অসন্তুষ্ট হয়েছেন বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিতের পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের লোকজন লাইসেন্স বাঁচাতে কোটি টাকা নিয়ে তার পেছনে ঘুরেছে। পরে ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে ওই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে বক্তব্যের প্রমাণ প্রকাশের দাবি জানান।

এ ছাড়া কয়েকদিন আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তাকে মূল বিষয়ের বাইরে কথা বলতে নিষেধ করেন। সব মিলিয়ে তাকে অন্য মন্ত্রণালয়ে সরিয়ে দেওয়ার জোরালো গুঞ্জন রয়েছে। সে ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী করা হতে পারে। স্বাস্থ্য খাতে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় আসতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।

কয়েকজন মন্ত্রীর দায়িত্ব কমানোর আলোচনা

রদবদলের পর মন্ত্রিসভায় নতুন করে কয়েকজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টেরিয়ান, পোড় খাওয়া রাজনীতিক এবং দুই-একজন তরুণ মুখ দেখা যেতে পারে। কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক দুর্বলতা ও কাজের ধীরগতিও চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর অংশ হিসেবে তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা এক মন্ত্রী এবং দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা আরেক মন্ত্রীর দপ্তর কমানোর আলোচনা চলছে। বিতর্কিত বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

গুঞ্জন রয়েছে, তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ওই মন্ত্রীর একটি দপ্তর সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে একজন প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরও পরিবর্তন হতে পারে।

আলোচনায় যেসব নতুন মুখ

নোয়াখালী অঞ্চল থেকে একজন প্রবীণ নেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির জোরালো সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ছয়বারের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুকের নাম আলোচনায় রয়েছে। সংসদীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে তাকে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।

নতুন মুখ হিসেবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, আব্দুস সালাম আজাদ, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, খন্দকার আবু আশফাক, নজরুল ইসলাম আজাদ এবং মো. মজিবুর রহমানের নামও আলোচনায় রয়েছে।

টেকনোক্র্যাট কোটায় আলোচনায় আছেন অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, শামসুজ্জামান দুদু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং হাবিব উন নবী খান সোহেল।

মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে জোটের শরিক দলগুলো থেকেও কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে আন্দালিব রহমান পার্থসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতার নাম উল্লেখ করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা কয়েকজন নেতাকেও নতুন মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত তালিকায় কারা থাকবেন, তা জানতে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।

যা বলছেন মন্ত্রী ও নেতারা

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কবে নাগাদ আসবে, সেটি একমাত্র প্রধানমন্ত্রী বলতে পারবেন।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, কী হবে তা তারা জানেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেককে মন্ত্রী হওয়ার এবং রদবদলের নানা আলোচনা দেখা যাচ্ছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন বলেন, পরিবর্তন হতে পারে। তবে দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাকে মন্ত্রিপরিষদে যুক্ত করা হবে, তা প্রধানমন্ত্রীই সবচেয়ে ভালো বোঝেন।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই।



banner close
banner close