বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে শুক্রবার থেকে দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ২০ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, উত্তাল সাগরের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের নৌবন্দরগুলোর জন্য ১ নম্বর সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
আরেকটি বিশেষ বুলেটিনে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক বলেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ২০ জুলাইয়ের পর দেশজুড়ে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিক ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা জারি করা হতে পারে।
সিনিয়র আবহাওয়াবিদ ড. বজলুর রশিদ বলেন, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি খুব বেশি বৃষ্টি না ঝরালেও ২০ জুলাইয়ের পর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়ে সারাদেশে কয়েকদিন ধরে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পাবনার ঈশ্বরদী ও নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ঢাকায় ৩৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গত তিন দিনের তুলনায় তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। এদিন সিলেটে সর্বোচ্চ ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলেও রাজধানী ঢাকায় এক মিলিমিটারেরও কম বৃষ্টি হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত দেশের আকাশ অধিকাংশ সময় মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। রংপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, বেসরকারি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থা বিওটি জানিয়েছে, টানা বর্ষণের কারণে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কোথাও কোথাও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলে বজ্রপাত এবং সিলেট ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সংস্থাটি সতর্ক করেছে। সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:








