বুধবার

১৫ জুলাই, ২০২৬ ৩১ আষাঢ়, ১৪৩৩

সব সুবিধা এক কার্ডে আনতে চায় সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই, ২০২৬ ২০:৫৯

শেয়ার

সব সুবিধা এক কার্ডে আনতে চায় সরকার
ছবি সংগৃহীত

দেশের সাধারণ মানুষ, প্রান্তিক কৃষক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের সব কল্যাণমুখী কার্ড একটি একক ইউনিভার্সাল কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, প্রবাসী কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় গুরুদের জন্য দেওয়া বিশেষ কার্ডের মতো সুযোগ-সুবিধা জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের করুণা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের পরম দায়িত্ব।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন তথা প্রথম বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

বক্তব্যে দেশের কৃষিখাত ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রসঙ্গ বিশদভাবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। নিজেকে কৃষকের সন্তান উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত, তাই এই জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠন করতে পারলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার ফলে সারা দেশে প্রায় ১৩ লাখ প্রান্তিক কৃষকের সুদসহ বকেয়া ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সব রাজনৈতিক দলের ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, একজন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য নিজ এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড কবে দেওয়া হবে জানতে চাওয়ায় তিনি আশাবাদী হয়েছেন, এবং ফ্যামিলি কার্ডের মতো কল্যাণমুখী নীতিতে সমর্থনের জন্য বিরোধীদলীয় নেতাসহ বিরোধী দলের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

অর্থনীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে পাচার হয়েছে, যার কারণে দেশের অবকাঠামোর মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিতে দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানান তিনি, যেখানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১০ লাখ ও ব্লু ইকোনমি এবং ইকোটুরিজম খাতে আরও ১০ লাখসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে পর্যায়ক্রমে ৯ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিবেশ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, প্রতি বছর গড়ে ৫ কোটি চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। এই কর্মসূচির জন্য ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলা হবে, যার মাধ্যমে আড়াই লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বুধবার সকালে একটি প্রাথমিক স্কুলের অনুষ্ঠানে সশরীরে এবং দেশের বিভিন্ন উপজেলার সঙ্গে অনলাইনে যুক্ত হয়ে একযোগে প্রায় ২ লাখ চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিন বছর আগে দেশব্যাপী সংলাপের মধ্য দিয়ে উপস্থাপিত ৩১ দফা রূপরেখা এখন দেশের মানুষের মুক্তির সনদে পরিণত হয়েছে এবং তা এখন কেবল বিএনপির নয়, সমগ্র বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি। জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি, পাশাপাশি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেশাদার করে গড়ে তোলা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের কথাও উল্লেখ করেন। বৈষম্যহীন, উগ্রবাদমুক্ত ও গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।



banner close
banner close