মঙ্গলবার

১৪ জুলাই, ২০২৬ ৩০ আষাঢ়, ১৪৩৩

ভারতের আগ্রাসী মনোভাব সাংবাদিক ইলিয়াসের আলোচনায় কী বলছে বিশ্লেষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬ ২১:১৫

আপডেট: ১৪ জুলাই, ২০২৬ ২১:১৮

শেয়ার

ভারতের আগ্রাসী মনোভাব সাংবাদিক ইলিয়াসের আলোচনায় কী বলছে বিশ্লেষকরা
ছবি বাংলা এডিশন

ভারতের আগ্রাসী মনোভাব সাংবাদিক ইলিয়াসের আলোচনায় কী বলছে বিশ্লেষকরা। ভারত বন্ধু নয় বরং তারা সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে এদেশের মানুষকে মগজ ধোলাই করছে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব কি হুমকির মুখে। প্রতিবেশী ভারতের দীর্ঘদিনের আগ্রাসী মনোভাব ও বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা কতটুকু। এসব বিষয় নিয়ে জনপ্রিয় অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন একটি টকশো অনুষ্ঠানে অতিথিদের সাথে আলোচনা করেছেন। যেখানে সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা তুলে ধরেছেন ভূ-রাজনীতির নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য।

আলোচনার শুরুতেই সঞ্চালক ইলিয়াস হোসাইন প্রশ্ন রাখেন সম্প্রতি তারেক রহমানের চীন সফরের পর ভারতের আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া এবং রংপুর-পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিরতা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে।

জবাবে অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল হাসিনুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর ভারতের জন্য উপযুক্ত জবাব বলে মন্তব্য করেন। তার মতে ভারতকে শিক্ষা দিতে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত সরকারের।

সেনাবাহিনীর বর্তমান সাহসী সব সিদ্ধান্ত স্থায়ী হবে কি না সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের এমন প্রশ্নের জবাবে হাসিনুর রহমান দৃঢ়তার সাথে বলেন সেনাবাহিনী এখন আর আগের মতো মেরুদণ্ডহীন অবস্থানে নেই। সৈনিকদের সচেতনতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান চারটি ব্যাটালিয়নের নাম খলিফাদের নামে রাখাই এই সাহসের বড় প্রমাণ।

পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা উঠলেই কেন বিশেষ একটি মহলে অপপ্রচার শুরু হয়। আলোচনায় এমন প্রশ্নের জবাবে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস একে ভারতের প্রোপাগান্ডা বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন ভারত ১৯৪৭ সাল থেকেই বাংলাদেশের শত্রু এবং তারা সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে এদেশের মানুষকে মগজ ধোলাই করেছে।

ভারত সত্যিই বাংলাদেশকে দখল করার মতো শক্তিশালী কি না এমন আলোচনায় সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা জানান ভারত মূলত তাদের শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেন নেক রক্ষার জন্যই বাংলাদেশের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। ভারতের পক্ষে যুদ্ধ করার মতো শক্তিশালী ও সুসংগঠিত সেনাবাহিনী খোদ ভারতের নিজেরই নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এসময় আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নিরাপত্তা বিশ্লেষক রেজাউল করিম জানান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনো দেশই বন্ধু নয়। প্রতিবেশীরা সবসময়ই এক ধরনের নিরাপত্তাজনিত প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকে।

ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি স্বীকার করেন বাংলাদেশ এক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। তাই এককভাবে ভারত বা চীনের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে সবার সাথে ভারসাম্য বজায় রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

আলোচনার শেষ পর্যায়ে এক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ইলিয়াস হোসাইন বলেন ভারত জন্মগতভাবেই বাংলাদেশের শত্রু এবং তারা হায়দ্রাবাদ বা সিকিমের মতোই বাংলাদেশকে গ্রাস করতে চায়।

দেশের অভ্যন্তরীণ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রসঙ্গ উঠলে অনুসন্ধানী এই সাংবাদিক এসব উসকানির পেছনে থাকা অর্থের উৎস ও ইন্ধনদাতাদের খুঁজে বের করতে গোয়েন্দা সংস্থাকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

বিশ্লেষকদের মতে একক কোনো শক্তির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সুষম পররাষ্ট্রনীতিই পারে বাংলাদেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে।



banner close
banner close