মঙ্গলবার

১৪ জুলাই, ২০২৬ ৩০ আষাঢ়, ১৪৩৩

এআই ক্যামেরার পর ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ প্রযুক্তি আনছে ডিএমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০৮

শেয়ার

এআই ক্যামেরার পর ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ প্রযুক্তি আনছে ডিএমপি
ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বর্তমানে ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরার পাশাপাশি তুলনামূলক কম খরচের ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ডিএমপির আশা, এ প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বল্প ব্যয়ে আরও বেশি এলাকায় নজরদারি বাড়ানো, ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, বর্তমানে ব্যবহৃত এআই ক্যামেরাগুলো কার্যকর হলেও সেগুলোর ব্যয় তুলনামূলক বেশি। দ্রুত নজরদারির পরিধি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা থেকেই ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ প্রযুক্তির ক্যামেরা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এসব ক্যামেরার দাম কম হলেও ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানো গেলে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আগের তুলনায় আরও বেশি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।

ভবিষ্যতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, এআই ক্যামেরা চালুর মাত্র দুই মাসের মধ্যেই নগরবাসীর কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। অনেকেই ট্রাফিক আইন মেনে চলছেন, সিগন্যাল অনুসরণ করছেন এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগগুলোকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার ভাষায়, আইন মানতে কাউকে বাধ্য করা হচ্ছে না; মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিয়ম অনুসরণ করছেন।

রাজধানীর যানজটের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ঢাকায় যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক যানবাহনের মিশ্র চলাচল অন্যতম বড় সমস্যা। বিশেষ করে অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। পাশাপাশি নগরীর ধারণক্ষমতার তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, রাজধানীতে এখনো বিপুলসংখ্যক আনফিট যানবাহন চলাচল করে। একই সঙ্গে উন্নত ও কার্যকর গণপরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পথচারীদের আচরণও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন ডিএমপির এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, অনেক পথচারী সিগন্যাল উপেক্ষা করে যত্রতত্র রাস্তা পারাপার করেন। কোথাও সবুজ সংকেতের জন্য অল্প সময় অপেক্ষা না করে রাস্তা পার হওয়ার প্রবণতা দুর্ঘটনা ও যানজটের ঝুঁকি বাড়ায়।

মো. আনিছুর রহমান বলেন, বিশ্বের উন্নত শহরগুলোর মতো ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা শুধু চালক, মালিক বা ট্রাফিক পুলিশের ওপর নির্ভর করে না; সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা ও নিয়ম মেনে চলার অভ্যাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের বাস্তবতায় সেই আচরণগত পরিবর্তন এখনও পুরোপুরি আসেনি।

তিনি জানান, ডিএমপির কাছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার যানজটের সময় ও ধরন সম্পর্কে সুস্পষ্ট তথ্য রয়েছে। পিক আওয়ার ও অফ-পিক আওয়ার বিবেচনায় ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। এছাড়া রাজধানীর প্রায় ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়, কারণ এসব স্থানে সার্বক্ষণিক যানবাহনের চাপ থাকে।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শুধুমাত্র ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে দীর্ঘমেয়াদে রাজধানীর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তাই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার দিকেই এগোচ্ছে ডিএমপি।



banner close
banner close