অর্ধনগ্ন চলাফেরায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি শেখ পরিবারের। শেখ পরিবারের অন্দরমহল; বাঙালি হয়েও উগ্র পশ্চিমা সংস্কৃতির ধারক-বাহক। শেখ পরিবারের ভিনদেশী সংস্কৃতি। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আলোচনায় শেখ পরিবারের অন্দরমহলের গল্প ও পশ্চিমা সংস্কৃতির চর্চা।
রাজনীতির মাঠে শেখ পরিবারের যে ভাবমূর্তিই থাকুক না কেন, বিগত দেড় দশকে অনেকটা আড়ালেই রাখা হয়েছিল এই পরিবারের অভ্যন্তরীণ নানা গল্প ও বিতর্কিত ইতিহাস। কিন্তু ক্ষমতা বদলের পর এখন জনমনে প্রশ্ন, কাদের পেছনে ছুটছেন মুজিবের উত্তরসূরিরা?
সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুই সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। বড় ছেলে জয়ের বৈবাহিক জীবন গড়ে উঠেছিল ২০০২ সালের ২৬ অক্টোবর মার্কিন নাগরিক ক্রিস্টিন ওভারমায়ারের সাথে। তবে স্থায়ী হয়নি সেই বৈবাহিক সম্পর্ক। ২০১১ সালে এসে দীর্ঘ ৯ বছরের সেই সংসারের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ ঘটে। বর্তমানে তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
বিচ্ছেদের পর এবং পূর্বেও জয়ের চলাফেরা সম্পূর্ণ মার্কিন ও পশ্চিমা ধাঁচে গড়ে উঠেছে। ওয়াশিংটন ও ম্যারিল্যান্ডের বিলাসবহুল জীবনযাপন, এমনকি গায়ে ট্যাটু সমালোচকদের নজর কেড়েছে। অন্যদিকে আলোচনা রয়েছে, তাঁর কন্যা ও সাবেক স্ত্রীর প্রাত্যহিক পোশাক-আশাক এবং খোলামেলা জীবনযাত্রায় বাঙালি সংস্কৃতির কোনো ছাপই নেই, বরং তা খাঁটি আমেরিকান সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি।
বিতর্কে পিছিয়ে নেই হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ব্যক্তিগত জীবনও। জানা যায়, নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে তিনি প্রথমে বিয়ে করেন ভারতীয় নাগরিক অভিজিৎ সাহাকে। এই পক্ষে তাদের ঘরে জন্ম নেয় কন্যা সেমন্তী কদুভাত। পরবর্তীতে সেই সংসার ভেঙে গেলে পুতুল দ্বৈত নাগরিকত্বধারী মাশরুর হোসেনকে বিয়ে করেন, যিনি স্বৈরাচারী সরকারের সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পুত্র। এই সংসারে তাদের চার সন্তানের জন্ম হলেও এই সম্পর্কেরও অবসান ঘটে বিচ্ছেদের মাধ্যমে।
পারিবারিক এই ভিনদেশী সংস্কৃতির ধারা আরও প্রকট হয়েছে পরবর্তী প্রজন্মে। পুতুলের প্রথম পক্ষের মেয়ে সেমন্তী কদুভাত পরবর্তীতে বিয়ে করেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক নিখিল জর্জ কদুভাতকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই তাদের বর্তমান আবাসন। হ্যালোইন উৎসব, ক্রিসমাস কিংবা পশ্চিমা নাইটলাইফ, তাদের প্রাত্যহিক জীবনে বাঙালি মূল্যবোধের চেয়ে আমেরিকান সংস্কৃতির চর্চাই প্রধান বলে সমালোচনা রয়েছে।
শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার পরিবারও একই ধারায় পরিচালিত। তার কন্যা টিউলিপ সিদ্দিক একজন ব্রিটিশ নাগরিক এবং তার জীবনসঙ্গীও ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত ক্রিস্টিয়ান উইলিয়াম সেন্ট জন পার্সি বা ক্রিস পার্সি। ২০১৫ সালের লন্ডনে তাদের বিয়ে হয় এবং বর্তমানে তাদের দুটি সন্তান। বিভিন্ন বৈশ্বিক অনুষ্ঠানে পশ্চিমা ফ্যাশন ও আধুনিক কর্পোরেট পোশাকেই টিউলিপ ও তাদের সন্তানেরা অভ্যস্ত।
অন্যদিকে রেহানার পুত্র রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিও বেছে নিয়েছেন সম্পূর্ণ ইউরোপীয় জীবনধারা। তার স্ত্রী পেপি কিভিনিয়ামি ফিনল্যান্ডের নাগরিক। ববি ও পেপি দম্পতির ঘরে রয়েছে দুই সন্তান। তারা মূলত ইউরোপ ও ঢাকায় আন্তর্জাতিক সংস্থার পরামর্শক হিসেবে পশ্চিমা ও অভিজাত গণ্ডির মধ্যে চলাফেরা করেন।
জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের তৎকালীন স্ত্রী ক্রিস্টিন ওভারমায়ারের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, তার ছেলের বউ ইহুদী নয়, খ্রিষ্টান। অনেকেই মনে করেন, এই বক্তব্যে দেশে বসে মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও সম্পূর্ণভাবে ইহুদীদের পক্ষপাতিত্ব করেছেন হাসিনা।
সমালোচকদের দাবি, মুখে দেশীয় ঐতিহ্য ও বাঙালি সংস্কৃতির কথা বলা হলেও এই পুরো পরিবারের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে মিশে আছে অত্যাধুনিক ও উগ্র পশ্চিমা সংস্কৃতি। মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দেখালেও শেখ পরিবারের এই অর্ধনগ্ন চলাফেরা বার্তা দেয় ভিন্ন কিছুর। লেট-নাইট পার্টি, অ্যালকোহল কালচার, খোলামেলা সামাজিক জীবনযাপন এবং একাধিক বিচ্ছেদের মতো ঘটনাগুলো তাদের পারিবারিক ঐতিহ্যেরই যেন অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাতীয়তাবাদ কিংবা দেশপ্রেমের স্লোগান দিলেও বৈবাহিক, মনস্তাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে এই পরিবারের প্রায় প্রতিটি সদস্যই এখন ভিনদেশী অপসংস্কৃতির ধারক ও বাহক। ফলে প্রশ্ন থেকেই যায়, যে পরিবারের চলাফেরা ও শিকড় এদেশের মানুষের মতো নয়, তাদের রাজনৈতিক আদর্শের পেছনে আর কতদিন অন্ধের মতো ছুটবেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা?
আরও পড়ুন:








