পলাতক আওয়ামী নেত্রী হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের তীব্র বিদ্রূপ শুরু হয়েছে। ফাঁকা কলসী বাজে বেশি, এই প্রবাদটি যেন নতুন করে জীবন্ত হয়ে উঠেছে গুজব নেত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে। দু’দিন পরপর ভারতের বুক থেকে উড়ে এসে বাংলাদেশে সবাইকে ‘দেখে নেয়ার’ ঘোষণার প্রেক্ষিতে অনেকেই বলছে, এই প্রবাদ যেন গুজব কন্যা শেখ হাসিনার জন্যই তৈরি।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্সকে দেয়া শেখ হাসিনার এক অডিও সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে নতুন করে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা সমালোচনা। সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেন, তিনি এবং তার নেতাকর্মীরা ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। এই বক্তব্য প্রকাশের পরপরই শুরু হয়েছে তাকে ঘিরে বিদ্রূপের রোল।
রয়টার্সকে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি এবং আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতারা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান। তিনি আরও বলেন, তাকে ফিরতেই হবে। তার দলের নেতা-কর্মীদের ওপর ভয়াবহ দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। দেশের মাটিতেই মৃত্যু হোক, এমন ফাঁকা বুলিও ছুঁড়তে দেখা যায় ফাঁসির আসামী হাসিনাকে।
ওই সাক্ষাৎকার প্রকাশের পরপরই এক সময়ের আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে একটি ভিডিও বার্তায় দেখা যায়, যেখানে তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দেশে ফেরার বিষয়ে সমন্বয় করছেন। ভিডিও বার্তায়, তিনিও হাসিনার ফাঁকা বুলিকে সমর্থন দিয়ে, দেশে ফিরবেন বলে জানান। যদিও, নেটিজেনরা তার এই বক্তব্যকে চূড়ান্ত রকমের চাপাবাজি বলে মন্তব্য করেছে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও আরেক ফ্যাসিবাদী নেতা মোফাজ্জল চৌধুরী মায়াকেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত দেখা যায়।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের একক অধিপতি শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ঘোষণা দেয়ার পর, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মাঝেও দেখা যায় বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া। এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তার ফাঁসির রায় কার্যকর করা হবে।
এছাড়াও, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. শফিকুর রহমানকে একটি ভিডিওতে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টিকে বিদ্রূপ করে উড়িয়ে দিতে দেখা যায়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশ ছেড়ে পালাবেন না বললেও, যেমন হাসিনা পালিয়েছেন, তেমনই আবার আসবেন বললেও, মূলত তিনি আসবেন না।
অন্যদিকে, বিএনপির নেতাকর্মীরাও শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টিকে হাস্যরস ও রঙ্গরসে পরিণত করেছেন। যুবদল নেতা নয়ন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, শেখ হাসিনা বলেছেন ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন, কিন্তু কোন ডিসেম্বরে ফিরবেন তা বলেননি, সেটা ৩ হাজার সালের ডিসেম্বরও হতে পারে, তবে এবছরের ডিসেম্বর নয়।
অন্যদিকে, অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিনাকি ভট্টাচার্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টে বিদ্রূপ করে বলেন, হাসিনা আওয়াজ দিলেও আসবেন না। সাহস থাকলে দেশে ঢুকে দেখাক। পারলে তার কন্যা পুতুলকেও নিয়ে আসুক, মানুষ জবাব দিবে।
এর আগেও, শেখ হাসিনাকে বহুবার দেশে ফেরার কথা বলতে শোনা গেছে। তিনি ফিরে এসে দলকে সংগঠিত ও সুবিন্যস্ত করার কথাও বলেছেন। কিন্তু, বাস্তবে এর আগে একাধিকবার এমন ঘোষণা দিলেও তিনি দেশে ফেরেননি। বরং দেশে থাকা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা তার ফেরার ঘোষণায় সক্রিয় হয়ে ঝটিকা মিছিলে অংশ নিয়ে ছাত্রজনতা ও পুলিশের হাতে নাকানি-চুবানি খেয়েছে। বারবার ঘোষণা দিয়ে, দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদ বাড়াচ্ছেন, তা নিজেও এক অডিও বার্তায় স্বীকার করেছেন হাসিনা।
দেশে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সক্রিয় ও উচ্ছ্বসিত রাখতেই, হাসিনা বারবার এমন বক্তব্য দিচ্ছেন। বাস্তবে তিনি এবং দেশের বাইরে বিলাসবহুল জীবনযাপন করা স্বৈরাচারী নেতারা, কেউই দেশে ফিরবে না। কারণ, তাদের কাছে দেশে ফেরা মানেই নিশ্চিত ফাঁসির মঞ্চে ঝুলে যাওয়া, এমনটাই মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন:








