টানা বৃষ্টি, বন্যা ও সরবরাহ সংকটের প্রভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। চাল, সবজি, মাছ, ডিম, আলু ও মুরগির মতো পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। বাজার সংশ্লিষ্টরা এর জন্য বৈরী আবহাওয়া, সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং চালের বাজারে কারসাজির অভিযোগকে দায়ী করছেন।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে বেশির ভাগ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। কাঁচা পেঁপে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০ টাকায়। আলুর দাম বেড়ে কেজিতে ৩০ টাকায় পৌঁছেছে।
চালের বাজারেও মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বড় মিল মালিকরা সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। যদিও মিল মালিকরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সুগন্ধি চিনিগুঁড়া চালের দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ৩০ টাকা বেড়ে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় এক মাসের ব্যবধানে ২৫ কেজির নাজিরশাইল চালের বস্তার দাম ২০০ টাকা এবং ৫০ কেজির বিআর-২৮ চালের বস্তার দাম ১০০ টাকা বেড়েছে।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, ৫০ কেজির সুগন্ধি চালের বস্তার দাম ৬ হাজার ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ৮ হাজার ৩০০ টাকায় পৌঁছেছে। ফলে ভোক্তাদের প্রতি কেজিতে প্রায় ৪০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে।
সবজির পাশাপাশি ডিম ও ডালের দামও বেড়েছে। বর্তমানে সাদা ডিমের ডজন ১২০ টাকা এবং লাল ডিম ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও সরবরাহ সংকটের প্রভাব স্পষ্ট। মাঝারি আকারের রুই মাছ খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি ৪৬০ থেকে ৪৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়ার দাম বেড়ে কেজিতে ২৫০ টাকা এবং পাঙাশ মাছ ২০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা এবং এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, ব্রয়লার মুরগির দামও কেজিতে প্রায় ২০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চালের বাজারে সিন্ডিকেট ও কারসাজির অভিযোগও উঠেছে। কৃষক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টদের দাবি, বাম্পার উৎপাদনের পরও ভোক্তা পর্যায়ে চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, চালের দাম বৃদ্ধির সূচনা মূলত মিল পর্যায় থেকেই হচ্ছে এবং এর আর্থিক চাপ বহন করতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান জানিয়েছেন, মিল থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত সমন্বিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এদিকে চলতি বাজেটে চাল, গম, ভোজ্যতেলসহ ৬৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি শুল্ক ও উৎসে কর কমানো হলেও বাজারে এর দৃশ্যমান প্রভাব পড়েনি। খুচরা ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, আগের বেশি দামে কেনা পণ্য বিক্রি শেষ না হওয়া পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা কম।
কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে সীমিত শুল্ক ছাড় সাধারণ মানুষের জন্য কার্যকর স্বস্তি আনতে পারেনি। তার মতে, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কার্যকর তদারকি এবং বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
আরও পড়ুন:








